স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক: ভিসা সহজীকরণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস. ওয়াই. রামাদান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন ও কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তাদের বাংলাদেশে আগমন ও পড়াশোনা সহজ করতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রদূত আরও প্রস্তাব করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিক বা শিক্ষার্থী বাংলাদেশি ভিসার জন্য আবেদন করলে সেই আবেদনের একটি অনুলিপি যাচাইয়ের স্বার্থে ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানো যেতে পারে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একটি মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে আমরা ফিলিস্তিনকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসি। ফিলিস্তিনের জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থী মুসলিম রাষ্ট্র। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত যেকোনো অপপ্রচার বা সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি জানান, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূতও নতুন দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে মন্ত্রীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক পরিচালক (ইনচার্জ) ফুয়াদ হাসান পরাগ এবং ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রথম সচিব নূর এইচ. ও. আলাইদি উপস্থিত ছিলেন।