• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস নীলগঞ্জের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা, হাজিপুরে মতবিনিময়ে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

কোচিংয়ে গিয়ে আর ফেরেনি মরিয়ম, ১২ দিনেও মেলেনি সন্ধান

রিপোর্টার: / ১০৩ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

 

কোচিংয়ে গিয়ে আর ফেরেনি মরিয়ম, ১২ দিনেও মেলেনি সন্ধান

নাহিদুল হক, কলাপাড়া প্রতিনিধি:

স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে প্রতিদিনের মতো গত ৩০ জুন কোচিং সেন্টারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১৪ বছর বয়সী মরিয়ম। পরিবারের সঙ্গে কথা ছিল, কোচিং শেষে বিদ্যালয়ে ক্লাস করে বিকেল চারটার মধ্যে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু সেই যাওয়া যেন শেষ যাওয়া। টানা ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। প্রিয় কন্যার অপেক্ষায় দিন গুনছে পরিবার, আর পুরো বাড়িজুড়ে বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা ও কান্নার পরিবেশ।

নিখোঁজ মরিয়ম মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মহিপুর থানাধীন সদর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর শিকদারের কন্যা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মরিয়ম পরিবারের সবচেয়ে ছোট ও আদরের সন্তান। তার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মা-বাবাসহ স্বজনরা আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

মরিয়মের বোন জামাতা নাঈম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে মরিয়ম বারবার পেছনে তাকিয়ে দ্রুত হাঁটছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছিল। তিনি বলেন, সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক বা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া যায়নি। মরিয়মের সহপাঠী ও বান্ধবীদের সঙ্গেও কথা বলে এমন কোনো তথ্য মেলেনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মরিয়মের মা পারুল বেগম বলেন, “আমার মেয়ে নিয়মিত নামাজ পড়ত, সব সময় বোরকা পরে চলাফেরা করত। কখনো উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেনি। কোথায় গেল, কী অবস্থায় আছে—কিছুই জানি না। ও বেঁচে আছে কি না, সেটাও বুঝতে পারছি না।”

বাবা জাহাঙ্গীর শিকদার বলেন, “প্রায় ১৪ বছর বয়স হলেও আমার মেয়ে কখনো কারও সঙ্গে অযথা ফোনে কথা বলত না। কোনো দিন এক রাতের জন্যও বাড়ির বাইরে থাকেনি। এখন শুধু জানতে চাই, আমার মেয়েটা কোথায়?”—এ কথা বলতে বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাণী কান্ত শিকদার বলেন, “মরিয়মের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পরিবার জিডি করেছে। বিদ্যালয় থেকেও বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম হাওলাদার বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। মরিয়মকে উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। তাকে খুঁজে বের করতে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

নিখোঁজের ১২ দিন পার হলেও মরিয়মের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত তাকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বজনরা।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ