• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই, সরকারি মালিকানাতেই থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে ধাক্কা, পাঁচ মাসে আয় কমেছে ৮ শতাংশ রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি, আরও পাঁচ দিন ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস কোচিংয়ে গিয়ে আর ফেরেনি মরিয়ম, ১২ দিনেও মেলেনি সন্ধান পাটাতন ধসে সড়কে নামাজ আদায়, কলাপাড়ায় মসজিদ সংস্কারে এগিয়ে এলেন যুবদল নেতা সুমন গাজী আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কে বর্জ্য অপসারণ, শুরু হচ্ছে নিমগাছ রোপণ সমুদ্রবন্দরের সতর্কতা সংকেত প্রত্যাহার, পাঁচ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা রোববার প্রকাশ হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল টানা বর্ষণে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, কোটি টাকার আমদানি পণ্য ক্ষতির অভিযোগ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিরোধ না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না’

কোচিংয়ে গিয়ে আর ফেরেনি মরিয়ম, ১২ দিনেও মেলেনি সন্ধান

রিপোর্টার: / ১৭ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

 

কোচিংয়ে গিয়ে আর ফেরেনি মরিয়ম, ১২ দিনেও মেলেনি সন্ধান

নাহিদুল হক, কলাপাড়া প্রতিনিধি:

স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে প্রতিদিনের মতো গত ৩০ জুন কোচিং সেন্টারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১৪ বছর বয়সী মরিয়ম। পরিবারের সঙ্গে কথা ছিল, কোচিং শেষে বিদ্যালয়ে ক্লাস করে বিকেল চারটার মধ্যে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু সেই যাওয়া যেন শেষ যাওয়া। টানা ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। প্রিয় কন্যার অপেক্ষায় দিন গুনছে পরিবার, আর পুরো বাড়িজুড়ে বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা ও কান্নার পরিবেশ।

নিখোঁজ মরিয়ম মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মহিপুর থানাধীন সদর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর শিকদারের কন্যা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মরিয়ম পরিবারের সবচেয়ে ছোট ও আদরের সন্তান। তার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মা-বাবাসহ স্বজনরা আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

মরিয়মের বোন জামাতা নাঈম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে মরিয়ম বারবার পেছনে তাকিয়ে দ্রুত হাঁটছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছিল। তিনি বলেন, সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক বা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া যায়নি। মরিয়মের সহপাঠী ও বান্ধবীদের সঙ্গেও কথা বলে এমন কোনো তথ্য মেলেনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মরিয়মের মা পারুল বেগম বলেন, “আমার মেয়ে নিয়মিত নামাজ পড়ত, সব সময় বোরকা পরে চলাফেরা করত। কখনো উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেনি। কোথায় গেল, কী অবস্থায় আছে—কিছুই জানি না। ও বেঁচে আছে কি না, সেটাও বুঝতে পারছি না।”

বাবা জাহাঙ্গীর শিকদার বলেন, “প্রায় ১৪ বছর বয়স হলেও আমার মেয়ে কখনো কারও সঙ্গে অযথা ফোনে কথা বলত না। কোনো দিন এক রাতের জন্যও বাড়ির বাইরে থাকেনি। এখন শুধু জানতে চাই, আমার মেয়েটা কোথায়?”—এ কথা বলতে বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাণী কান্ত শিকদার বলেন, “মরিয়মের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পরিবার জিডি করেছে। বিদ্যালয় থেকেও বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম হাওলাদার বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। মরিয়মকে উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। তাকে খুঁজে বের করতে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

নিখোঁজের ১২ দিন পার হলেও মরিয়মের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত তাকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বজনরা।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ