
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রফতানিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আয় ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে রফতানির পরিমাণ কমেছে ৬ দশমিক ২১ শতাংশ এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যও প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশের রফতানিমুখী পোশাক শিল্পের জন্য এটি উদ্বেগজনক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানি আয় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে—এই পাঁচ মাসে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতরের টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল অফিস (OTEXA) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৩ দশমিক ২৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ কম। তবে এ সময়েও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান অক্ষুণ্ন রয়েছে।
রফতানির পরিমাণের ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। জানুয়ারি থেকে মে সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়েছে ১০৮ কোটি ৫ লাখ স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট (এসএমই) পোশাক, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২১ শতাংশ কম। একই সময়ে পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ৩ দশমিক ০৫ ডলার থেকে কমে ২ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে কম্বোডিয়ার পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, চীন ও ভারতের রফতানি কমলেও সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। এর পেছনে জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, নীতিগত সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
এনজেড অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালেউদ জামান খান বলেন, বাংলাদেশকে চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। এসব দেশ নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন কর-সুবিধা দিলেও বাংলাদেশে ২৭ শতাংশ কর আরোপের কারণে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, গত কয়েক মাসে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক ক্রেতা পূর্বনির্ধারিত ক্রয়াদেশ বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো, কর-নীতি পুনর্বিবেচনা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি নীতিসহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।