• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই, সরকারি মালিকানাতেই থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে ধাক্কা, পাঁচ মাসে আয় কমেছে ৮ শতাংশ রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি, আরও পাঁচ দিন ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস কোচিংয়ে গিয়ে আর ফেরেনি মরিয়ম, ১২ দিনেও মেলেনি সন্ধান পাটাতন ধসে সড়কে নামাজ আদায়, কলাপাড়ায় মসজিদ সংস্কারে এগিয়ে এলেন যুবদল নেতা সুমন গাজী আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কে বর্জ্য অপসারণ, শুরু হচ্ছে নিমগাছ রোপণ সমুদ্রবন্দরের সতর্কতা সংকেত প্রত্যাহার, পাঁচ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা রোববার প্রকাশ হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল টানা বর্ষণে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, কোটি টাকার আমদানি পণ্য ক্ষতির অভিযোগ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিরোধ না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না’

টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই, সরকারি মালিকানাতেই থাকবে

রিপোর্টার: / ১৬ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই, সরকারি মালিকানাতেই থাকবে

স্টাফ রিপোর্টার:

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে টেলিটককে সরকারি মালিকানাতেই রাখা হবে।

সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক—এই চারটি মোবাইল অপারেটর সেবা দিচ্ছে। টেলিটকের নেটওয়ার্ক কভারেজ ও সেবার মান উন্নত করতে আরও বেশি মোবাইল টাওয়ার স্থাপন এবং উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “টেলিটককে বাজারে রাখতেই হবে। এটি সরকারি মালিকানাতেই থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় অপারেটর না থাকলে বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো সেবার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে।”

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ৭ দিন ও ১৫ দিনের ইন্টারনেট প্যাকেজের অব্যবহৃত ডেটার মেয়াদ নিয়ে সরকার গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করেছে। যদিও অপারেটররা তাদের বিদ্যমান ব্যবসায়িক নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তবুও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

কলড্রপ সমস্যার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে এ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় চাপ অব্যাহত রাখা হবে।

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৪টি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ভুক্ত কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও জেলা আদালতসহ ৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে দেশের ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ ও রেমিট্যান্স পাঠানো আরও সহজ হবে।

শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছেনি, সেসব এলাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে টেলিটকসহ অন্যান্য অপারেটরের মাধ্যমে দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে ৯ হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে। এর অধিকাংশই জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকলেও একযোগে সংস্কার সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্রিল্যান্সিং ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পেশায় সম্পৃক্ত করতে সরকার উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী ৫জি সেবা সম্প্রসারণে মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তিনিরপেক্ষ (টেকনোলজি-নিউট্রাল) লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ৫জি চালুর জন্য ২ দশমিক ৩ গিগাহার্জ ও ২ দশমিক ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের নতুন স্পেকট্রাম উন্মুক্ত করা হবে।

চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরির লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ