• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি

রিপোর্টার: / ৪ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে সক্রিয় দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা

ইসি সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, কেবল সেনা মোতায়েন নয়, বরং জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপনির্বাচনগুলো ত্রুটিমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই সমস্ত ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তারিখ ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষা ও পরীক্ষার সঙ্গে সমন্বয়

নির্বাচন কমিশনার জানান, কমিশন বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি বেশ কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচি কমিশনকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলমান থাকবে। এরপর জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই রমজান মাস শুরু হবে। পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি রয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর মধ্যবর্তী যে সময় পাওয়া যাবে, তা অত্যন্ত সীমিত।

প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা ও কমিশনের অবস্থান

  • শিক্ষকদের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ও খাতা মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন।
  • শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য।
  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কমিশন।
  • নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপের জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ইউপি নির্বাচনের প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সানাউল্লাহ স্পষ্টভাবে তা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, ইতিপূর্বে যে সময়সূচির কথা জানানো হয়েছিল, তা ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার ওপর ভিত্তি করে করা একটি সাময়িক পরিকল্পনা। ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। কমিশন তার পূর্বের অবস্থান থেকে সরে যায়নি, বরং সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত একটি গ্রহণযোগ্য তারিখ নির্ধারণের কাজ করছে। এর আগে কমিশন সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি খসড়া পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। ইসি জোর দিয়ে বলেন, তখন থেকেই কমিশন জানিয়েছিল যে ওই সময়সূচি চূড়ান্ত নয় এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর তা পুনর্বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে কমিশন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করছে এবং খুব দ্রুতই চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব বিষয়কে কমিশন যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইন অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় এলে সেগুলোও যথাসময়ে আয়োজন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ