
এক বছরের দায়িত্বকাল শেষে নিজেদের কার্যক্রমের খতিয়ান ও জবাবদিহির প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম পুরো বছরের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিক্ষা, আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন খাতে নেওয়া উদ্যোগের তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ অডিট এখনো প্রকাশিত না হওয়ায় ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শিত প্রেজেন্টেশন অনুযায়ী, বছরব্যাপী বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অংকের অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ছারপোকা দমনে ব্যয় করা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। এছাড়া শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নে ৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক জিমনেসিয়াম নির্মাণে ৬৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ হল সংস্কারের জন্য ৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা আদায়ের তথ্যও জানানো হয়েছে। ভিপি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, অডিটের কাজ চলমান রয়েছে এবং খুব দ্রুতই খরচের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হবে।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদকের ৩৫ কোটি টাকার কাজের দাবির বিষয়ে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু এর চেয়েও বেশি কাজ করেছে, তবে প্রশাসনের অসহযোগিতা ও বাধার কারণে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসুর জন্য নির্ধারিত বাজেট প্রশাসন এখনো প্রদান করেনি এবং পুরো সময় জুড়ে তাদের ভূমিকা ছিল বৈরী। তা সত্ত্বেও আবাসন সমস্যা, হলে খাবারের মান উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য গবেষণাসহ সহস্রাধিক কাজ সম্পন্ন করেছে ডাকসু কমিটি। এছাড়া শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি একাডেমিক প্রক্রিয়ায় তোলা হলেও প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তা কার্যকর করা যায়নি; ফলে ডাকসু নিজ উদ্যোগে ‘ডিইউ টিচার্স ইভ্যালুয়েশন’ নামে ওয়েবসাইট খুলেছে।
দক্ষতা উন্নয়ন ও পরিবহন খাতেও ডাকসু নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, প্রাথমিক চিকিৎসা কর্মশালা, বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্স এবং উচ্চশিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন সেশন আয়োজন করা হয়েছে। পরিবহন খাতে শনিবারের বাস সার্ভিস, সন্ধ্যার রুটের ট্রিপ, নারী হলগুলোর জন্য বাস সুবিধা এবং ঢাকা-কুমিল্লা রুটে সাপ্তাহিক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
ডাকসুর প্রকাশিত ‘খতিয়ান’ শীর্ষক বইটিতে অনেকগুলো আটকে থাকা বা অসম্পূর্ণ প্রকল্পের বিবরণও দেওয়া হয়েছে। আইসিটি বিভাগের সহায়তায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, এআই বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ ও চাকরি মেলার মতো ছয়টি উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার, ডাকসু ক্যান্টিন উন্নয়ন, পুকুরপাড়ে সৌন্দর্যবর্ধন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও ডিজিটাল সেবাসহ স্থানীয় সরকার এবং সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু প্রকল্প ঝুলে রয়েছে। পাশাপাশি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান বিতরণ, নারী শিক্ষার্থীদের জিমনেসিয়ামের কার্যকারিতা ও বিভিন্ন হলের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ একাধিক বিষয়ে অসন্তোষের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।