
পাকিস্তানের স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী রাতভর সীমান্ত এলাকা সংলগ্ন পাক সেনাচৌকিতে মর্টার ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে গোলাবর্ষণ করেছে। এর আগে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সীমান্ত দিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের একটি প্রচেষ্টা প্রতিহত করার দাবি জানায়। ইসলামাবাদ দাবি করছে, পাকতিয়া ও নানগারহার প্রদেশে আফগান সীমান্তচৌকির নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তালেবান বাহিনী তাদের সহায়তা করে। অনুপ্রবেশের এই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই মূলত তালেবানরা পাকিস্তানি সীমান্তচৌকি লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করে। এর জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী পাল্টা গোলাবর্ষণ করে তালেবানের মর্টার স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে তালেবানদের কয়েকটি অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে পাক কর্মকর্তাদের দাবি।
উত্তেজনা আরও বেড়েছে ড্রোন হামলার ঘটনায়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের তথ্যমতে, বুধবার নিরাপত্তা বাহিনী আফগান তালেবানের পাঠানো আটটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে চারটি তোরখাম সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এবং বাকি চারটি কোহাতের কাছে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। পাক বাহিনীর দাবি, ওই এলাকাগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোপন আস্তানা রয়েছে এবং সাম্প্রতিক অভিযানে অন্তত ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এ ধরনের হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। উল্টো তালেবান প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক হামলায় তিনজন সাধারণ আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনাবলির জেরে কাবুল ও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান পূর্ব আফগানিস্তানের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছিল। উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।