
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে ওয়াশিংটনের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে এবং দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। উল্লেখ্য, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার অজুহাতে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে আগাম অনুমতির কড়াকড়ি আরোপ করে। এর আগে গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে গোলাবর্ষণের ঘটনায় তা ভেস্তে যায়।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, লেবাননসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে টানা সাত দিনের জন্য সব ধরনের সামরিক সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। এই যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ইরান বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা, ইরানি তেলের ওপর থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন এই প্রস্তাবে লেবাননসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে টানা ৭ দিনের জন্য সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপর বিভিন্ন সময় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও মার্কিন সামরিক জবাবি হামলায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যায়।
আব্বাস আরাঘচি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের এই নতুন শান্তি প্রস্তাবের প্রতি চীনের সমর্থন রয়েছে। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেন মহেবি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় ইয়েমেন সংঘাতের চূড়ান্ত অবসান ঘটানোকেও ইরান অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে ইরান এখন ওয়াশিংটনের ইতিবাচক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এবং দ্য গার্ডিয়ানকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে চীন এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে বলে জানান আরাঘচি।