• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গাজার সংকটে দুবাইয়ে ১০ মিলিয়ন খাবারের প্যাকেট প্রস্তুতি ও ১১টি বোয়িং কিনতে আড়াই বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সম্ভাবনা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ আলোচনা করে সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপদ অভিবাসন ও শ্রম আইন সংস্কারে ইইউর সঙ্গে আলোচনা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ স্থগিত আবুধাবি সফর করলেন নেতানিয়াহু, বৈঠক করলেন প্রেসিডেন্ট নাহিয়ানের সঙ্গে শাহজালালে তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প ব্যয় বাড়ল ৮৪৭ কোটি টাকা একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন অক্টোবরেই ১০ এয়ারবাস কেনার চুক্তি: বিমানমন্ত্রী

আকাশসীমা জটিলতায় আটকে রূপপুরের ইউরেনিয়াম, আসছে বিকল্প পথে

রিপোর্টার: / ১৪ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি বা এয়ারস্পেস ক্লিয়ারেন্স নিয়ে জটিলতার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভিন্ন রুটে এটি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই জটিলতা নিরসনে আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি পর্যায়ক্রমে দেশে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য রাশিয়ায় নির্ধারিত উড়োজাহাজে জ্বালানি তোলাও হয়েছিল।

পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য বিশেষায়িত কার্গো উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়, যা যেসব দেশের আকাশসীমা দিয়ে উড়ে যায়, সেসব দেশের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। গত ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত চালানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না মেলায় আকাশপথে জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়। এর আগে, দ্বিতীয় ইউনিটের এই জ্বালানি গত জুন মাসে আসার কথা থাকলেও দুই দফা সময় পরিবর্তন করে সেপ্টেম্বরে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটমের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্তে চালানটি পৌঁছাতে বিলম্বের বিষয়টি অবহিত করা হয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বরের চালানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি। পরে দুই দফা সময় পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্যবহৃত জ্বালানির একটি অংশ পরিবর্তন করতে হয়।

প্রকল্প কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এই বিলম্বের ফলে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ বা কমিশনিংয়ে তাৎক্ষণিক কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, কারণ জ্বালানি লোড করার পর্যায়ে যেতে এখনো কিছুটা সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। রাশিয়া থেকে আসা মোট সাতটি চালানের মাধ্যমে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আসবে। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ইতোমধ্যে রিঅ্যাক্টরে লোড করা হয়েছে; তবে নিয়মিত ব্যবহারের প্রেক্ষিতে প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু বাড়তি জ্বালানিও এই নতুন চালানের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি যেভাবে কঠোর নিরাপত্তায় বাংলাদেশে আনা হয়েছিল, এবারও একই নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে। কার্গো বিমানযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার পর সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ পাহারায় সড়কপথে জ্বালানিগুলো পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় স্থানান্তর করা হবে। রাশিয়া থেকে আসা এই বিশেষ জ্বালানির চালানে কোনো ঝুঁকির অবকাশ রাখা হয় না বলেই সংশ্লিষ্টরা জানান।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তিতে তৈরি এই কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণমাত্রায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের সাতটি চালান ধারাবাহিকভাবে দেশে পৌঁছায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ