
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম দেশে আসা নিয়ে কোনো ধরনের সংকট নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত বিশ্ব হাসি দিবস ২০২৬-এর এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ‘ঠোঁট-তালু কাটা কোনো অভিশাপ নয়, চিকিৎসায় ভালো হয়’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
প্রকল্পটির অগ্রগতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি অত্যন্ত বৃহৎ ও জটিল একটি কর্মযজ্ঞ। এখানে আন্তর্জাতিক মানের ‘থ্রি জেনারেশন প্লাস’ পারমাণবিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলছে। এই স্থাপনায় বিপুলসংখ্যক যন্ত্রপাতির ব্যবহার হচ্ছে, যার প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কোনো যন্ত্রে ছোটখাটো সমস্যা দেখা দিলে তা কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই পুনরায় সচল করা হয় এবং যন্ত্রপাতি ঠান্ডা বা কোল্ড ডাউন করার মতো প্রক্রিয়ায় বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হয়।
বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময়সীমা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, বড় প্রকল্পে মাঝেমধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি চ্যালেঞ্জ সামনে আসে। পূর্বে একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত থাকলেও বড় স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে অনেক সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী তা ধরে রাখা সম্ভব হয় না। তিনি বিষয়টি একটি বাড়ি নির্মাণের সাথে তুলনা করে বলেন, দুই বছরে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব কারণে সময়ের পরিবর্তন ঘটে। তাই সব ধরনের নিরাপত্তাবিধি মেনেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে কিছুটা বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সাথে পার করছি। ইনশাল্লাহ, আপনারা সবাই দোয়া করবেন।’’ প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঠিক তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি যেমন—সচিব, পিডি বা এমডির সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অনির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যে দেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে, যা কাম্য নয়। প্রকল্পটি নিয়ে সঠিক তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা হয় আমাকে জিজ্ঞেস করবেন, না হয় আমার সেক্রেটারি সাহেবকে, পিডিকে বা এমডিকে জিজ্ঞেস করবেন।’’।
প্রকল্পের বিষয়ে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই কেন্দ্র নিয়ে যেকোনো সময় যেকোনো প্রশ্ন করা যাবে। মূলত নিরাপত্তার সাথে কোনো আপস না করেই কেন্দ্রটি চালুর প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাই প্রকল্প নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। দেশের মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।