• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শাহজালালে নির্বাহী পরিচালককে হুমকি ও লাঞ্ছনার অভিযোগে মামলা বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা ও রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এলো দেশে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জামায়াত আমিরের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি নিয়ে কোনো সংকট নেই: মন্ত্রী নিজের আইকিউকে ‘সবচেয়ে বেশি’ বলে দাবি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইরানকে চাপে রাখতে ৩ বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা ও রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

রিপোর্টার: / ৬ পঠিত
আপডেট: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা ও আরও একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে পেন্টাগনের এই বড় আকারের সেনাবহর পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ২ অক্টোবর শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ইতোমধ্যে সান ডিয়াগো ঘাঁটি থেকে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। এর ঠিক একদিন পরেই ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা বহনকারী ‘মেকিন আইল্যান্ড’ মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও তাদের যাত্রা শুরু করেছে। ২ অক্টোবর (শুক্রবার) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এ তথ্য উঠে এসেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অষ্টম মাসে গড়াচ্ছে। এমন এক সময় মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে নিজেদের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যা ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন সামরিক শক্তির প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অক্টোবর ও নভেম্বরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে একই সঙ্গে তিনটি বিমানবাহী রণতরি এবং দুটি উভচর ল্যান্ডিং গ্রুপ অবস্থান করবে। কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত এই বিশাল সেনা পাঠানোর উদ্দেশ্য নিয়ে দুটি ব্যাখ্যা সামনে আসছে। দ্বিতীয়ত, এটিকে কূটনৈতিক দরকষাকষির মার্কিন কৌশল হিসেবেও দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে ৯ থেকে ১০ হাজার নৌ ও মেরিন সেনা যুক্ত হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই অবস্থানরত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে এই বহরে এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেটের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি সামরিক ঘাঁটি বা উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইন, মিশর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৮টি স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ ও সেনা সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে। গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ১২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর এ অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর সর্ববৃহৎ বোমারু ও যুদ্ধবিমানের সমাবেশ।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন যে, নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানে বিমান হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনাকর যুদ্ধের সময়কাল ইতিমধ্যে আট মাস পেরিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন তাদের এই কৌশলগত সামরিক উপস্থিতিকে আরও জোরদার করতে বদ্ধপরিকর বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন কূটনীতির পথ খোলা রাখলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে সামরিক আক্রমণের সম্ভাব্য সব পথ ‘টেবিলে রাখাই’ এই বিপুল সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ