
দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’-এ প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প অস্ত্রসংকটের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। তবে শিগগিরই এই ঘাটতি পূরণ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী বিপুল পরিমাণ দূরপাল্লার ভূমিতে হামলা পরিচালনাকারী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘ইন্টারসেপ্টর’ ব্যবহার করেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের’ জুলাই মাসের এক মূল্যায়নে বলা হয়, প্যাট্রিয়ট এবং থাডের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা। তখন এটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান থেকে আসা প্রস্তাব তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি অস্ত্রের এই সংকট সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান না করলেও জানান, পরিস্থিতি উত্তরণের লক্ষ্যে মার্কিন অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশজুড়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে। বর্তমানে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য দেশজুড়ে নতুন নতুন কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক রিপোর্টেও অস্ত্র ঘাটতি ও সরবরাহের ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছিল। তবে আমাদের কাছে মাঝারি ও উচ্চ-মাঝারি মানের অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র এখনও প্রচুর রয়েছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, যদিও তিনি এর আগেই যুদ্ধ জয়ের দাবি করেছিলেন, তবে সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হতে পারে। যুদ্ধের এই দীর্ঘসূত্রতা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং এনওআরসি সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ থেকে জানা গেছে, বর্তমান অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের নীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৬ শতাংশ আমেরিকান তার অর্থনৈতিক নীতির ওপর আস্থা রাখেন, যা তার পুরো শাসনামলে সর্বনিম্ন একটি সংখ্যা। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে যুদ্ধের প্রভাব ও অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।