• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচন নিয়ে মুখ খুললেন না ট্রাম্প

রিপোর্টার: / ৩ পঠিত
আপডেট: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সরাসরি সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নেতানিয়াহুকে আরও এক মেয়াদে দায়িত্ব দেওয়া উচিত কি না। উত্তরে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থনের পরিবর্তে বলেন, তিনি এখন আর সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত নেই। পরিবর্তে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় সহায়তার বিষয়টিতেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া উচিত কি না। তবে নেতানিয়াহুকে খাটো করে দেখার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন তিনি। তাই নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, প্রস্তাবটি যথেষ্ট ছিল না।

নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, আইজেনকোট সম্পর্কে তিনি কোনো নেতিবাচক কথা শোনেননি। এর আগে বিভিন্ন সময় নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ বলে ধারণা করা হলেও তিনি টিকে গিয়েছেন—এমনটি উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, অতীতে নেওয়া নানা নীতিমালার কারণে ইসরায়েলিদের মাঝে তার নিজের জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ। এরপর ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষায় সহায়তা করাই তার প্রধান বিষয় বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, অনেকবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে, যেমনটা তাকেও বহুবার ধরে নেওয়া হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও যুদ্ধের বিষয়টিও উঠে আসে। ট্রাম্প জানান, শুরুতে এই সামরিক অভিযান চার থেকে আট সপ্তাহের জন্য পরিকল্পনা করা হলেও, পরে তিনি ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংসের জন্য অভিযান আরও দীর্ঘ করার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের পরেও সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ট্রাম্প দাবি করেন, এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয় এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও তিনি নাকচ করে দেন। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে ইরানে বিমান হামলা আরও তীব্র হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে তা ‘সম্ভব’ বলে উল্লেখ করেন। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। সামগ্রিকভাবে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার না করলেও যুদ্ধের ময়দানে নিজের নেওয়া কৌশল ও নীতিগুলোর প্রতি তিনি দৃঢ় অনড় মনোভাব প্রদর্শন করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ