• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মেট্রোরেলের লাইন-১ ও ৫ প্রকল্পে ৪৬ হাজার কোটি টাকার ইন্দোনেশিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে বাংলাদেশ তুরস্কের দুরুপিনার ফরমেশনে ফের নূহের নৌকার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান নির্ধারিত দামেই এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর হুঁশিয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসিক এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ৪ সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ: আসন শূন্য ঘোষণা এশিয়ান গেমস ফাইনালে মুখোমুখি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান কাতারে চাকরির সুযোগ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের নিয়োগ বার্তা ডিসেম্বরে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিষেধাজ্ঞার মুখেও সচল ইরানের আকাশপথ, অস্পষ্ট ভবিষ্যৎ

তুরস্কের দুরুপিনার ফরমেশনে ফের নূহের নৌকার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান

রিপোর্টার: / ২ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় আগরি প্রদেশের দোগুবায়াজিত এলাকায় অবস্থিত দুরুপিনার ফরমেশনে পুনরায় বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এই স্থানটি ঐতিহাসিকভাবে নূহের নৌকার সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এখানে মাটির গভীরের গঠন বুঝতে রাডার স্ক্যান, কোর ড্রিলিং এবং মাটির নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জানকার আতিলা এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর সাথে মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্সসহ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি তথ্যচিত্র নির্মাণকারী দলও কাজ করছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু ও ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

১৯৫৯ সালে তুরস্কের সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও মানচিত্রবিদ ইলহান দুরুপিনার আকাশ থেকে তোলা আলোকচিত্র বিশ্লেষণের সময় সর্বপ্রথম এই অস্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক আকৃতিটি চিহ্নিত করেছিলেন। এরপর থেকে এলাকাটি ঘিরে নানা মতভেদ থাকলেও বর্তমান অনুসন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ফিল্ম কমিশনের মতে, আন্তর্জাতিক তথ্যচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে দোগুবায়াজিত অঞ্চলটির পর্যটন পরিচিতি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসেবে গবেষকরা প্রথমে জিপিএস অবস্থানের ভিত্তিতে এলাকাটির দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করেছেন। ড. জানকার আতিলা জানান, রাডার জরিপে মাটির নিচে কিছু ফাঁকা জায়গার অস্তিত্ব মিলেছে, যা দেখতে অনেকটা করিডোর বা কক্ষের মতো। এই কাঠামোগুলোকে আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সরু ড্রিলের মাধ্যমে ‘গোফার’ নামক একটি বিশেষ রোবট পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই রোবটটি মাটির নিচের উচ্চ রেজল্যুশনের ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম এবং এটি মাটির নমুনা সংগ্রহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুন এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় মাটির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের কিছু চমকপ্রদ পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্স। তাঁর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই ঢিবির ভেতরের মাটিতে বাইরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি জৈব পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়া ভেতরের মাটিতে পটাশিয়ামের হার বাইরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি এবং পিএইচ মাত্রার পার্থক্য প্রায় আটগুণ। গবেষকদের ধারণা, এসব বৈচিত্র্য দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বদ্ধ পরিবেশে জৈব পদার্থের ক্ষয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এখনো এটিকে নূহের নৌকার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

এর আগে ১৯৯৬ সালের একটি গবেষণায় এই কাঠামোকে প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক গঠন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। আধুনিক ভূতাত্ত্বিকদের একাংশ মনে করেন, চুনাপাথর ও আগ্নেয় কাদামাটির সংমিশ্রণে গঠিত এই এলাকাটি দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ার ফলে নৌকার আকৃতি ধারণ করেছে। মার্কিন উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফ্যাসোল্ড অতীতে গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার ব্যবহার করে এই এলাকাটি পরীক্ষা করেছিলেন। তাঁর মাপে ফরমেশনটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৬৪ মিটার, যা ধর্মীয় বর্ণনার নূহের নৌকার দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি। সে সময় বড় বড় কিছু পাথর পাওয়া গিয়েছিল, যাকে অনেকে নৌকার নোঙর হিসেবে দাবি করলেও সংশয়বাদীরা সেগুলোকে সমাধিফলক বলে অভিহিত করেছেন। পরে ফ্যাসোল্ড নিজেও তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছিলেন। ৩৪০০০ ফুট উঁচুতে এক পাইলট ছুরিকাঘাত করেন আরেকজনকে, ১৮০ যাত্রীসহ বিমান ক্র্যাশ করার চেষ্টা। একসময় তিনি এটিকে প্রাচীন জাহাজের জীবাশ্মীভূত অবশিষ্টাংশ বলে মনে করেছিলেন।

অধ্যাপক জানকার আতিলা জানিয়েছেন, সংগৃহীত নমুনাগুলো সারা শীতকালজুড়ে পরীক্ষা করা হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রতিকূল শীতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রমে মাঝে বিরতি পড়তে পারে, যা প্রকল্পটিকে আগামী বছর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করতে পারে। গবেষণা দলটি আগামী বছর এবং তার পরের বছরও অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

সামগ্রিকভাবে, নূহের নৌকার অস্তিত্বের বিষয়টি ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম ঐতিহ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই ফরমেশনটিকে নূহের নৌকার অংশ হিসেবে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায়, তবে স্থানটি বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় ও পর্যটন দর্শনার্থীদের জন্য অনন্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। তবে বর্তমানে এটি কেবল গবেষণার পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ