• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কাতারে চাকরির সুযোগ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের নিয়োগ বার্তা ডিসেম্বরে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিষেধাজ্ঞার মুখেও সচল ইরানের আকাশপথ, অস্পষ্ট ভবিষ্যৎ যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ পেলেন ফেরদৌসী আহমেদ এশিয়ান গেমস হকিতে চীনের কাছে বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশের কাতারে আগ্নেয়াস্ত্র ধার ও হস্তান্তরের ওপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর অক্টোবর থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর ভিন্নমতকে সম্মান করাই গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি: মাহদী আমিন কবিতার ছন্দে বেঁচে থাকুক প্রেমাংশু

নিষেধাজ্ঞার মুখেও সচল ইরানের আকাশপথ, অস্পষ্ট ভবিষ্যৎ

রিপোর্টার: / ৬ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লেও ইরানের আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এখনো বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের তথ্যমতে, বিদেশগামী মোট ফ্লাইটের প্রায় ৭৫ শতাংশ এখনো এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করছে। ফ্লাইট সূচক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রোববারেও ইরানি বিমান সংস্থাগুলো ১৯টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের মধ্যে অন্তত ১১টিতে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে ২৪টি আসা-যাওয়ার ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইরানের আন্তর্জাতিক রুটের তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, ম্যাকাও, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। তবে পরিস্থিতির ভিন্ন চিত্রও রয়েছে; আজারবাইজান, জর্জিয়া, ইরাক, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী রামিন কাশেফ আজারের দাবি অনুযায়ী, ইরানি এয়ারলাইন্সগুলো বর্তমানে ৩০টিরও বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বেসামরিক বিমান খাতসংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসে। এই তালিকায় ইরানের ২৭টি এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি তাদের সহায়তাকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তেহরান বেসামরিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামাদি পরিবহন করছে। পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান ইরানকে বিমান প্রযুক্তি ও সংবেদনশীল সরঞ্জাম সংগ্রহে সহযোগিতা করছে বলেও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এর আগে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে কোনো ধরনের সহায়তা—যেমন অবতরণের অনুমতি, জ্বালানি সরবরাহ বা টিকিট বিক্রির মতো সেবা প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই হুমকির প্রভাব ও ভূ-রাজনৈতিক জটিলতায় ফ্লাইট চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বাস্তবতা হলো, শুধুমাত্র গন্তব্য দেশের অনুমতি থাকলেই ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব নয়, এর জন্য মাঝপথের দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও জরুরি। সম্প্রতি তুর্কমেনিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় তেহরান থেকে দুশানবেগামী একটি ফ্লাইট মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আকাশপথের যোগাযোগ সচল থাকলেও, ক্রমাগত নিষেধাজ্ঞার চাপ ও আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারে কড়াকড়ি ইরানের এভিয়েশন খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ