
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির খুচরা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছেন। ফলে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার যেখানে সরকার ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের ২১০০ থেকে ২৬০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকে চড়া দামে কিনতে হয় বলেই তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে বাজারে এলপিজির কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু, প্রকৃত চিত্র একেবারে ভিন্ন। উল্লেখ্য, প্রতি মাসেই সরকারের পক্ষ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও, সেই দামের চেয়ে বেশিতে ভোক্তাদের কাছে তা বিক্রি আসছেন খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)। গত ১ অক্টোবর সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বার্তা দেওয়া হয়। এতে জানানো হয়েছে, নিয়ম অমান্য করে বেশি দামে বিক্রি বা মজুত করলে তা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাজারের বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্ট মাসেও ১ দশমিক ৫৮ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস আমদানি করা হয়েছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় বাজারে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত। সুতরাং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো অবকাশ নেই এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেওয়া হবে না।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এলপিজি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী এক অনলাইন সভায় জেলা প্রশাসকদের বাজার মনিটর করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এলওএবি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে।
বর্তমানে এলপিজির এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো পর্যায়েই যেন ভোক্তারা হয়রানির শিকার না হন এবং নির্ধারিত দামেই যাতে জ্বালানি পণ্যটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলওএবির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও বিক্রেতাদের অবিলম্বে সরকারি দাম মানার আহ্বান জানানো হয়েছে, অন্যথায় কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।