
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পাওয়া নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছরে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।’। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ ১শ’টি লিড সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে রয়েছে।’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশকে শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তা প্রদান করবে। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ সকল খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘সরকার ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ। এসব উদ্যোগ কৃষিখাতকে সহায়তা করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।’। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঢেলে সাজানো হয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তনের মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, আধুনিক কৃষিসেবা ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগ করছে, যাদের ৮০ শতাংশই নারী। তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করবেন।
শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের উপযোগী করে গড়ে তোলার হাতিয়ার হতে হবে। আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ চলছে এবং শিশুদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মই দেশের অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি, সেচ ও কৃষি অর্থায়ন সহজলভ্য করা হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনই লক্ষ্য। সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি বিকশিত ও সহযোগিতাভিত্তিক এলাকায় পরিণত করার জন্য তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। বাসস-এর তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।