• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
তিন মাসের মধ্যেই সরছে গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে মন্ত্রী সব সমস্যার সমাধান করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আশ্বস্ত করলেন রাশেদ খাঁন ট্রাম্পের নৈশভোজে অংশ নিলেন তারেক রহমান ও জুবাইদা ঢাকার মাদক বাণিজ্যে শিশুদের ব্যবহার উদ্বেগজনক পর্যায়ে শাহজালালে স্বর্ণসহ বিমানের কর্মী ও যাত্রী আটক শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে: দীনেশ ত্রিবেদী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই: দীনেশ ত্রিবেদী তালতলীতে ফের সক্রিয় আনোয়ার হোসেন, জমি দখলের অভিযোগে আতঙ্কে স্থানীয়রা বিমানবন্দর থানার মামলায় জামায়াত নেতা মেজর আখতারুজ্জামানের এক দিনের

ঢাকার মাদক বাণিজ্যে শিশুদের ব্যবহার উদ্বেগজনক পর্যায়ে

রিপোর্টার: / ৬ পঠিত
আপডেট: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

রাজধানীর অবৈধ মাদক কারবারে শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশেরই বয়স ১৫ বছর বা তার নিচে। কর্মসংস্থানের অভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে জবরদস্তির শিকার হয়েই এই শিশুরা মাদক বাণিজ্যের অন্ধকার জগতে জড়িয়ে পড়ছে।

‘আনভেইলিং প্যাটার্নস অ্যান্ড সোশিওডেমোগ্রাফিক ক্যারেক্টারিস্টিকস অব ড্রাগ ট্রাফিকিং ইন ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গবেষণাটি গত ১০ আগস্ট পিএলওএস ওয়ান নামক আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এতে ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা শহরে মাদক বিক্রিতে জড়িত এক হাজার ১৬ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গড় বয়স ২৬ দশমিক ৭ বছর। তাদের মধ্যে প্রায় ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক পর্যায় বা তার নিচে। প্রায় ২৯ শতাংশই ফুটপাতে রাত কাটাতেন এবং ১০ শতাংশ নিজেদের গৃহহীন হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। পেশাদার যৌনকর্মীদের মধ্যে যারা এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন, তাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই মাদক বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

বয়সভেদে মাদক বিক্রির ধরণও ভিন্ন। ১৫ বছর বা তার কম বয়সীরা মূলত ইয়াবা ও হেরোইন বিক্রিতে বেশি সক্রিয়। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে গাঁজা ও ইয়াবার আধিপত্য বেশি দেখা গেছে। নারীদের মধ্যে যারা যৌন পেশায় জড়িত, তাদের মধ্যে ইয়াবার ব্যবহার বেশি হলেও অন্যান্য নারীরা মূলত হেরোইন ও গাঁজা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ২৮৫ জন শুধু ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে ২৫০ জন গাঁজা ও হেরোইন—দুটিই বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্যমতে, শিশুদের মাদক ব্যবসায় আসার মূল কারণ বেকারত্ব। নারীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র পাওয়া গেলেও, মেয়ে শিশুদের অনেক ক্ষেত্রে জবরদস্তি বা কৌশলে এই পথে নামানো হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সুযোগের অভাব মাদক কারবারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রির বৈচিত্র্য রয়েছে। ২৫৩ জন শুধু গাঁজা বিক্রির কথা জানিয়েছেন, যাদের পল্টন ও বসুন্ধরা এলাকায় আধিপত্য বেশি। ইয়াবা বিক্রির জন্য কমলাপুর ও বাড্ডা এলাকা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ফার্মগেট ও তেজগাঁও এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবা উভয়ই বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাভার ও পল্টন এলাকায় গাঁজা ও হেরোইন বিক্রির প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া ২২৮ জন গাঁজা ও ইয়াবা—দুটিই বিক্রির কথা জানিয়েছেন।

মাদক আসার প্রধান রুটগুলো সম্পর্কে গবেষণায় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। হেরোইন পাকিস্তান থেকে ভারতের পাটনা হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে, পরে সাভার, মিরপুর ও মহাখালী হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। গাঁজা ভারত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা হয়ে ঢাকায় পৌঁছায়। মিয়ানমার থেকে টেকনাফ এবং ভারতের মিজোরাম ও মেঘালয় হয়ে আসা ইয়াবার রুটগুলো বৃহত্তর ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ নেটওয়ার্কের অংশ। এছাড়াও জামালপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহের সীমান্ত পয়েন্টগুলো দিয়েও মাদক প্রবেশ করে। পরে একাধিক রুটে সিলেট ও সুনামগঞ্জ হয়ে ঢাকায় আসে। গবেষণার মানচিত্রে তিনটি প্রধান আন্তঃসীমান্ত রুট আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।

গবেষক দলের প্রধান, ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের শিক্ষক ড. শাফায়াত হোসেন জানান, ১৫ বছরের নিচের শিশুদের এই উচ্চ হারে সম্পৃক্ততা মাদক সিন্ডিকেটের অমানবিক কৌশলের বহিঃপ্রকাশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে সিন্ডিকেটগুলো এই শিশুদের ব্যবহার করছে, যা বড় ধরনের সামাজিক উদ্বেগের কারণ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘স্নোবল স্যাম্পলিং’ পদ্ধতিতে সংগৃহীত এই তথ্যকে সামগ্রিক পরিসংখ্যান হিসেবে না দেখে প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

এই গবেষণায় ড. শাফায়াত হোসেনের সাথে যুক্ত ছিলেন গ্যারেথ জে হল্যান্ডস, মো. আলামিন, মো. রোকনুজ্জামান, মাহদী হাসান এবং সামিয়া আক্তার। পুরো প্রক্রিয়াটি ঢাকা ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে সম্পন্ন হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ