
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ | পুরোনো প্রভাব ফিরে পাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি, বরগুনা :
বরগুনার তালতলী উপজেলায় বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেনকে ঘিরে ফের নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর তিনি আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমি দখল, সরকারি খাসজমি ও জলমহাল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের চেষ্টা এবং জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় জমির মালিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তালতলীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের জমি ও সরকারি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী খাসজমি, চরাঞ্চল এবং দরিদ্র কৃষকদের জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের দাবি, জমি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হতো। কেউ কেউ পুলিশি হয়রানি ও মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আনোয়ার হোসেন পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। পূর্বে যেসব জমি নিয়ে বিরোধ বা দখলের অভিযোগ ছিল, সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন করে জমি নিয়ে তৎপরতা চালানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর আমরা ন্যায়বিচারের আশা করেছিলাম। কিন্তু আবারও চাপ ও ভয়ভীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে প্রকৃত কাগজপত্র যাচাই না করে কোনো পক্ষ যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি খাসজমি ও জলমহালের প্রকৃত মালিকানা এবং ইজারা সংক্রান্ত নথিও যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং প্রকৃত জমির মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।