• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জামিন পেলেন মাকছুদা, কারাগারেই এমপি গাজী নজরুল চীনের প্রতি বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান অক্টোবরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম দিল্লিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের জাইমা রহমান জাতিসংঘে নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন: মাহ্দী আমিন নতুন সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ গঠন করলেন আমির ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল লিটারপ্রতি ৮ টাকা ৩৯ পয়সা বিমানবন্দরে অসুস্থ মা, মানবিকতায় পাশে দাঁড়ালেন আনসার সদস্যরা দুর্গাপূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু

জামিন পেলেন মাকছুদা, কারাগারেই এমপি গাজী নজরুল

রিপোর্টার: / ৯ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জামিন পেলেন মাকছুদা, কারাগারেই এমপি গাজী নজরুল

মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপসনামা আদালতে, রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি | নারী ও বয়স বিবেচনায় মাকছুদার জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। বয়স ও নারী বিবেচনায় মাকছুদাকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানিতে মরিয়ম আক্তারের বাবা ও মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে উপস্থিত হয়ে দুই আসামির জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলে জানান। এ সময় মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের করা একটি আপসনামাও আদালতে দাখিল করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসার ভিত্তিতেই দুই আসামির জামিন চাওয়া হয়েছিল। বাদী নিজে আদালতে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, আসামিদের জামিনে তাঁর আপত্তি নেই এবং তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মতো মামলায় বাদীর আপসনামা দেওয়ার আইনগত সুযোগ রয়েছে কি না, সেটি বিবেচনার বিষয়। তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, বাদী ও আসামিরা নিকট আত্মীয় হওয়ায় আপসনামাটি কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে হয়েছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, হলফনামার বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাঁদের মনে হয়েছে, কোনো চাপের কারণে এটি করা হয়ে থাকতে পারে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, আদালত আপসনামাটি আংশিক গ্রহণ করেছেন এবং এর ভিত্তিতেই মাকছুদা ইসলামের জামিন হয়েছে।

আপসনামায় যা বলা হয়েছে

আদালতে দাখিল করা আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, মরিয়ম আক্তার ছিলেন গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। নথিতে দাবি করা হয়, গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনায় কিংবা তাঁদের কোনো কার্যকলাপে রাগ বা অভিমানের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি।

নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে ঢাকার ন্যাম ভবনের বাসায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেন। পরে গাজী নজরুল ইসলামের ফোন পেয়ে বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে সেখানে গিয়ে মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

মেয়ের জামাইয়ের বাসায় এ ঘটনা ঘটায় সন্দেহের বশে তিনি গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনা কিংবা তাঁদের কোনো কার্যকলাপে রাগ বা অভিমানের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয় বলে আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আপসের শর্ত অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলে বাদী বা তাঁর পরিবারের কারও কোনো আপত্তি থাকবে না। মুক্তির পর উভয় পক্ষ হৃদ্যতাপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবেন বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিচারাধীন মামলায় উভয় পক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার কথাও আপসনামায় উল্লেখ রয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে ও কারও প্ররোচনা ছাড়া এতে স্বাক্ষর করেছেন।

আপসনামাটি ২৯ সেপ্টেম্বর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয়। এতে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বাক্ষর রয়েছে।

যেভাবে শুরু হয় মামলা

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

পরদিন পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এক দিনের রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার আরেক আসামি ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-২। পরে তাঁকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গাজী নজরুল ইসলামকে প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটির তদন্ত বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে রয়েছে। বুধবারের জামিন শুনানিতে বাদীপক্ষের আপসনামা এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য আদালতে উপস্থাপিত হয়। শুনানি শেষে মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর হলেও গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। ফলে তিনি কারাগারেই থাকছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ