• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতিসহ তিন দাবিতে বিশেষ কমিটির বৈঠক ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত নীতিমালা হচ্ছে: মন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি: ট্রলি ও লাগেজ সংকট চরমে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মুখপাত্র হিসেবে কামারুম মুনিরার দায়িত্ব গ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি মেঘনায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু বুধবার রাতে ইরানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা ইরাকি এয়ারওয়েজের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা চাইলেন পররাষ্ট্র দেশে হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু ২০২৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হ্যালজেন

শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি: ট্রলি ও লাগেজ সংকট চরমে

রিপোর্টার: / ৫ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি নতুন কোনো বিষয় নয়। বেশ কয়েক মাস ধরেই লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, ট্রলি সংকট এবং ইমিগ্রেশন হয়রানির মতো ঘটনায় যাত্রীদের ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি এসব অব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিমানবন্দরটির সেবার মান ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে সেখানে প্রায় চার হাজার ট্রলি রয়েছে। তবে একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট অবতরণ করলে ট্রলির চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়, যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুদিন আগে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে অতিরিক্ত ট্রলি আনা হয়েছিল। এর বাইরেও জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা। এছাড়া কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যাত্রীদের হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে।

গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বেল্ট এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েন জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। পরে তাকে সরকারি কাজে বাধা প্রদান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ফেরত এক গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করেন, লাগেজ বুঝে পেতে তার প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে এবং তার একটি লাগেজ ভাঙা ও অন্যটি খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সৌদি আরব থেকে আসা আরেক যাত্রী জানান, ৪৫ মিনিট লাগেজের অপেক্ষায় থাকার পর ট্রলি পেতেও তাকে বাড়তি সময় নষ্ট করতে হয়েছে। আগমনী ফ্লাইটের চাপের সময় বড় ধরনের অব্যবস্থাপনা তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিকে, বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে পুরনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা সহ্য করা হবে না, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের পুরস্কৃত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তবে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল সতর্কবার্তা নয়, বরং সেবার মান বাড়াতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ