• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আগামী ৭ অক্টোবর ঢাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সম্মেলন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতিসহ তিন দাবিতে বিশেষ কমিটির বৈঠক ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত নীতিমালা হচ্ছে: মন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি: ট্রলি ও লাগেজ সংকট চরমে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মুখপাত্র হিসেবে কামারুম মুনিরার দায়িত্ব গ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি মেঘনায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু বুধবার রাতে ইরানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা ইরাকি এয়ারওয়েজের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা চাইলেন পররাষ্ট্র দেশে হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতিসহ তিন দাবিতে বিশেষ কমিটির বৈঠক

রিপোর্টার: / ৫ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আন্দোলনে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সুরক্ষায় সাংবিধানিক দায়মুক্তি এবং ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ সভায় অংশ নিয়ে তারা এই তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। সভায় শহীদদের স্বজন এবং আহত ব্যক্তিসহ বিভিন্ন সংগঠনের মোট ৬৩ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মা-বাবা, ভাই এবং আহত ব্যক্তিসহ বিভিন্ন সংগঠনের ৬৩ জন জুলাইযোদ্ধা অংশ নেন। তৃতীয়ত, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং জঘন্য হত্যাকাণ্ডের দায়ে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। এই সাংবিধানিক গণভোটটা আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

কমিটির সভাপতি জানান, শহীদ পরিবার ও আহতদের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্রটি সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ উপযুক্ত জায়গায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়। এছাড়া, যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান অধ্যাদেশটি আইনি বৈধতা পেয়েছে, তবে এর সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে তা সংবিধানের তফসিলে যুক্ত করা হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে সরকার প্রসিকিউশন ও তদন্ত কাজে পূর্ণ সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এ নিয়ে কাজ চলছে। তবে অতীতের বিতর্ক এড়াতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সর্বশেষ বিকল্পটি বাতিল করার প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো রক্ষায় গণভোট ব্যবস্থা পুনরায় বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে ‘ডকট্রিন অব একলিপস’ নীতির ভিত্তিতে আগের আইনি ব্যবস্থা পুনর্বহাল হবে। নতুন সংবিধানে এমন কিছু সংশোধনী আনা হবে, যার ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার এককভাবে মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন আনতে চাইলে সাংবিধানিক গণভোট আয়োজন করা বাধ্যতামূলক থাকবে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোট ব্যবস্থা বাতিল করা হলেও, হাইকোর্ট তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ যেভাবে সনদটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, কমিটি ঠিক সেভাবেই এটি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন নিয়ে তিনি জানান, প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিগগিরই সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, সাবেক বিচারপতি এবং শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মতামত গ্রহণ করা হবে। সবার পরামর্শ পর্যালোচনার পরেই জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত বিল উপস্থাপন করা হবে। সভায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সাকিলা ফারজানাসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর বাইরে নতুন কোনো পদ্ধতিতে এটি বাস্তবায়নের সুযোগ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ