• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি: অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বাড়তি শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা পাঁচদিনের ছুটির ঘোষণা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু নয়াদিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বিনিয়োগ বাড়াতে ২০ উদ্যোগের সাতটি বাস্তবায়ন শাহজালাল বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালান: ৪ মাসে ১৭০ কোটির উদ্ধার পথশিশু-ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: ডা. জাহিদ বিদায়ী বক্তব্যে যা বললেন মেসি রাজশাহী মেডিকেলের ভিসিকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র লেখানোয় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার কাতারে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি: সাকুরা সুপারমার্কেট ১০ দিন বন্ধ

নয়াদিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

রিপোর্টার: / ৪ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় দায়িত্ব পালনের সময় বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তিনি নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বিশেষ করে বিগত এক সপ্তাহে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। তবে আকস্মিক সফরে সোমবার তিনি ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। তিন দিনের এই সফরসূচিতে তিনি বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মঙ্গলবার সফরকালে ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে এটি মোদির সঙ্গে তার দ্বিতীয় মুখোমুখি সাক্ষাৎ। অভিজ্ঞ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় নিয়োগের মূল লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রাখা, যাতে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার যেকোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব হয়। যদিও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাংশের আপত্তি ছিল, তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী অংশের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। সাধারণত ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগের কোনো সুযোগ থাকে না।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইস্যু নিয়ে ত্রিবেদীর এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই দিনে তিনি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া তিনি নিরাপত্তা এজেন্সির কর্মকর্তা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও আলোচনায় বসবেন। বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে যে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি কী বার্তা দিল্লিকে দিতে চান। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের বিষয়েও তিনি কোনো প্রস্তাব দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিল্লিতে কূটনৈতিক মহলেও ত্রিবেদীর দিল্লি ছুটে আসা এবং একের পর এক বৈঠকের মাধ্যমে কী বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের সঙ্গে ত্রিবেদীর আলোচনায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব জোরদার এবং কৌশলগত সামরিক সমন্বয় এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন উপায় উঠে এসেছে। বৈঠকে তারা সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করে তা সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সামরিক বোঝাপড়া ও যৌথ সহযোগিতার বিষয়গুলোও তিনি সেনাপ্রধানের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দেশের মধ্যেকার বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৯০টি ওয়ার্কিং গ্রুপ কার্যকর রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৮-৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাণিজ্য সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। আগামী ৮-৯ অক্টোবরের দুদিনের এই বৈঠকে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ