• শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বের বাইরে গিয়েও কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকারেই সংস্কার, উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার আশ্বাস কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তরের তাগিদ রাষ্ট্রপতির, গুরুত্ব সংরক্ষণ ও গবেষণায় কালিগঞ্জের মথুরেশপুর জামায়াতের অফিস উদ্বোধন বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ দেশের চার অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা তিন সিটির উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি: অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বাড়তি শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা পাঁচদিনের ছুটির ঘোষণা

বাংলাদেশের অগ্রাধিকারেই সংস্কার, উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার আশ্বাস

রিপোর্টার: / ১৯ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

 

বাংলাদেশের অগ্রাধিকারেই সংস্কার, উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার আশ্বাস

আইএমএফ- বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় নিজস্ব কৌশলে গুরুত্ব | ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার কৌশলের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর মতে, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের নিজস্ব পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার গুরুত্ব পাওয়ায় দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, এবার বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। শুধু আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক নয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার অনুযায়ী সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করছে।

সংস্কার ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

আইএমএফের ঋণসহায়তা পেতে বিভিন্ন শর্ত বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকার দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নে আশাবাদী।

আইএমএফের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিবেচনায়ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাসে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইএমএফের প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ সাধারণত কিছুটা সংরক্ষণশীল হয়ে থাকে।

তিনি জানান, আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৭ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকার বাজেটে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং এ লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদী।

উপদেষ্টা বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সংস্কারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও এসব অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হবে। পরিকল্পিত সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্ব

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে ড. তিতুমীর বলেন, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাবের পাশাপাশি অতীত থেকে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতিও বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে উপকারভোগী নির্বাচনে নানা সমস্যা ছিল। প্রকৃত সুবিধাপ্রত্যাশীদের অনেকে তালিকার বাইরে থাকলেও অনুপযুক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ সুবিধা পেয়েছেন। বিচ্ছিন্নভাবে কর্মসূচি পরিচালনার কারণেও প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে কার্যকর সামাজিক সুরক্ষার ঘাটতির কারণে গত কয়েক বছরে দারিদ্র্য বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপকারভোগী নির্বাচন করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর করতে ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাকে উন্নয়ন সহযোগীরা ইতিবাচকভাবে দেখছে বলেও জানান উপদেষ্টা।

কর আহরণ ও ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর পরিকল্পনা

ড. তিতুমীর বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে কর আহরণ ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিবরণী ও ব্যালান্স শিটের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যাংক খাতের অনিয়মে জবাবদিহির তাগিদ

অতীতের আর্থিক অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংক খাতসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ লুটপাটের কারণে দেশের সাধারণ মানুষকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করা হয়েছে। এ অর্থ জনগণের, তাই আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

তিনি বলেন, অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং তাঁদের সহায়তাকারীরা দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুন, তাঁদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়ম মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অনিয়মে সহায়তাকারীদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা ১২ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে, চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। সভায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ