
ছয় মাসে মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সংরক্ষণের নির্দেশ, ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পরিবেশ ও বন রক্ষায় সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়েও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।
সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি বা মাতৃগাছ চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি গাছ লাগানোর পর নিয়মিত পরিচর্যা, রোপণ করা চারার বেঁচে থাকার বিষয়টি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে হলে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্বের বাইরে গিয়েও কিছুটা বেশি কাজ করতে হবে। পরিবর্তন আনতে হলে নিজের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোগী হতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনার যেটা ডিউটি, তার থেকে একটু বেশি কাজ করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে।”
তিনি বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার জীবনে আসে না। বর্তমানে যারা দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাঁদের সেই সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে থেমে গেলে চলবে না; দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার মানসিকতা থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আল্লাহতাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।”
পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ তত সহজ হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি পরিকল্পনার সঙ্গে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মানুষের প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর মতো জায়গা কম। এ ধরনের স্থান বাড়ানোর পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগান এবং বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যথাযথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সব মানুষ এর সুফল পাবে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা, বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ এবং সার্বিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ, বনায়ন সম্প্রসারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।