
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে এক প্রাতরাশ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়।
উক্ত বৈঠকে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। চলমান ইউএনজিএ অধিবেশনের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং বৈশ্বিক মানবিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান ও দূরদর্শিতা এই বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর আলোকপাত করা হয়। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর উন্নয়ন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক সহায়তার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে এই উদ্যোগগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রাতরাশ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ‘সংকটের টেকসই সমাধানে নতুন আহ্বান: দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি থেকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার পথে’ শীর্ষক ওই ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা গুরুত্ব পায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক বৈঠকেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেশের পক্ষে বক্তব্য রাখবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটিই হবে তার প্রথম ভাষণে অংশগ্রহণ। জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক সংকট, বিশ্বশান্তি এবং টেকসই উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েই তার এই নিউইয়র্ক সফর পরিচালিত হচ্ছে।