• বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বকাপ আমেজে নতুন লুকে ঝড় তুললেন শাকিরা, নেটদুনিয়ায় আলোড়ন সীমান্ত হত্যা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা এনসিপি নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর ১ জুলাই থেকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন, ধাপে ধাপে বাড়বে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ঈদে পশুর হাটে বিশৃঙ্খলা হলে কঠোর ব্যবস্থা, ডিএমপির কড়া সতর্কবার্তা মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসকে দেখতে গেলেন জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনায় জোর, জনগণের হয়রানি বন্ধে কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর ডুয়েটে ভিসি নিয়োগ ঘিরে টানা আন্দোলন, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এ অচল ক্যাম্পাস দেশজুড়ে শুরু তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা, ডিজিটাল সেবায় জোর ইরান ইস্যুতে যুদ্ধ শঙ্কা কমতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্বস্তি ঈদে টানা ৭ দিন ব্যাংক বন্ধ, বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা থাকবে কিছু শাখা

যৌতুকের বলি যৌনপল্লিতে স্ত্রীকে বিক্রি স্বামীর, সংসার করতে চান স্ত্রী/দৈনিক ক্রাইম বাংলা।। 

রিপোর্টার: / ২২৪ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৩

এম জাফরান হারুন, নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী।।

যৌনপল্লিতে বিক্রি করা পূনরায় স্বামীর সংসার সহ স্বামীর কাছে স্ত্রীর মর্যাদার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোসাঃ সাহিনুর বেগম নামে এক নারী।

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাহিনুর বেগম সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

ভুক্তভোগী সাহিনুর বেগম দাবি করেন, ‘বরিশাল সদর উপজেলার ১০নং চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ভেদুরিয়া গ্রামের মৃত জালাল খানের ছেলে মো. জাহিদ খানের সঙ্গে ১৪ বছর আগে তার বিয়ে হয়। সেসময় ইসলামী শরিয়া মোতাবেক নিজ বাড়িতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভাই আলমগীর, ইসমাইল, বোন মিতু ও বকুল এবং তার মা খালেদার উপস্থিতিতে সাহিনুর বেগমকে বিয়ে করেন জাহিদ। বিয়ের প্রায় দুই বছর পর জাহিদ বিদেশ যাওয়ার কথা বলে সাহিনুরের কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

একদিন নির্যাতনের পর চিকিৎসার নাম করে সাহিনুরকে বরিশাল শহরে নিয়ে আসেন এবং কিছু ওষুধ খাওয়ান জাহিদ। সেসময় সাহিনুর বেগম ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সেখান থেকে তাকে পটুয়াখালীতে নিয়ে এসে বোন পরিচয় দিয়ে এক বাসায় রেখে চলে যান জাহিদ। পরে সাহিনুর জানতে পারেন তাকে সেখানে যৌনপল্লির দালালের কাছে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হয়েছে। আর সেই টাকা দিয়েই বিদেশে পাড়ি দেন স্বামী জাহিদ খান।

এদিকে ওষুধ খাওয়ার ২০ দিন পর একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন সাহিনুর। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর পতিতাবৃত্তি করার পর মুক্তি মেলে সাহিনুরের। এখন নিজে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন।

তবে সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন তার স্বামী মো. জাহিদ খান দেশে ফিরেছেন। এমন খবর পেয়ে গত ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর সহিনুর তার এক পরিচিত জনকে নিয়ে জাহিদের বাড়ি রওনা হন। এ সময় পথে চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জাহিদকে দেখতে পান। সাহিনুরকে দেখে জাহিদ একটি দোকানে নিয়ে বসান এবং তিনি কেন সেখানে গেছেন সেজন্য তাকে গালমন্দ করতে থাকেন।

সাহিনুর আরও বলেন, ‘আমি স্ত্রীর মর্যাদা দাবি করলে আমার ওপর চড়াও হন তিনি। এক পর্যায়ে ৬নং ওয়ার্ডের ভেদুরিয়ার ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন সুজন ও স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার লিটনের সহযোগিতায় পরিষদের এক রুমে আটকে আমাদের মারধর করেন। ওই সময় আমাদের সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান জাহিদের লোকজন।
খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বন্দর থানা পুলিশের মাধ্যমে আমাদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী পাঠিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাহিনুর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কী অপরাধ করেছি, আমার জীবনটা কেন এভাবে চলবে। আমি তো স্বামীর সংসার করতে চাই। আমি আমার স্বামীর কাছে অধিকার ফিরে পেতে চাই। আর না হলে বিচার চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ