• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস নীলগঞ্জের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা, হাজিপুরে মতবিনিময়ে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

ঘোড়াঘাটে বিকাশ কর্মকারের বিদ্যুৎ চালিত তৈরী ‘হ্যামার’ কমেছে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম/দৈনিক ক্রাইম বাংলা। 

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ / ২৪১ পঠিত
আপডেট: রবিবার, ৯ জুলাই, ২০২৩

প্রতি গ্রামের কামারশালা মানেই কর্মকারের হাতে থাকা হাতুরি দিয়ে উত্তপ্ত আগুনে পোড়ানো লোহা পেটানোর কর্কশ শব্দ, পোড়া গন্ধ এবং পোড়া লোহা থেকে বিচ্ছুরিত আগুনের স্ফুলিঙ্গ। এমন চিত্র গ্রামগঞ্জের কামারশালার নিত্যদিনের দৃশ্য।

তবে সর্বত্রই যখন আধুনিকতার ছোঁয়া। তখন পিছিয়ে নেয় এই কামারশালাও। কামারশালায় সাধারণত লোহার কারিগর বাতাস প্রবাহিত করার বিশেষ যন্ত্র ‘হাপর’ টেনে কয়লার আগুনকে উস্কে রাখে। কয়লার সেই আগুনে লোহাকে গরম করে পিটিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হয়। সে সবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দা, বটি, চাকু, ছুরি, কোদাল, কাস্তে ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারিত বিভিন্ন জিনিস পত্র।

তবে গ্রামীন জনপদের সেই কামারশালায় কয়লায় বাতাস প্রবাহে ‘হাপর’ টানার পরিবর্তে বিদ্যুতিক মোটরচালিত ফ্যানের সাহায্যে বাতাস প্রবাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও আগুনে উত্তপ্ত করা লোহা দুজন কর্মকার মুখোমুখি বসে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে বিভিন্ন আকৃতির জিনিস তৈরি করলেও, বর্তমানে সেই একই কাজ করছে মোটর চালিত বিদ্যুতিক ‘হ্যামার’।

এমনই এক আধুনিক কামারশালা নজর কাড়ছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌর এলাকায় আজাদ মোড়ে। দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আ লিক মহাসড়কের ধার ঘেঁষে গড়ে তোলা এই আধুনিক কামারশালার মালিক কচু কর্মকার ও তার ছেলে বিকাশ কর্মকার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখে এই হ্যামার তৈরির উদ্যোগ নেন বিকাশ কর্মকার।

এতে কামারশালায় কাজ করা লোহার জিনিসপত্র তৈরির কারিগরদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম যেমন কমেছে, তেমনি বেড়েছে কাজের গতি। সব মিলিয়ে ¯^চ্ছলতা ফিরতে শুরু করেছে কর্মকারদের পরিবারে।

পুরোটি লোহা দ্বারা তৈরি করা এই ‘হ্যামার’ তৈরি করতে তাদের খরচ হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এখন থেকে বছর দু’য়েক আগে ফেসবুকের একটি ভিডিওতে আধুনিক এই হ্যামারের কিছু অংশ দেখেছিলেন বিকাশ কর্মকার। তবে সেই ভিডিওতে পুরো হ্যামারের ছবি দেখানো হয়নি। সেই ভিডিও দেখার পর নিজেও একটি ‘হ্যামার’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ধীরে ধীরে তৈরি করায় এক বছর সময় লেগেছে এটি তৈরি করতে। এমনটাই দাবি বিকাশ কর্মকারের।

কামারশালায় একটি ‘দা’ তৈরি করে নিতে এসেছিলেন রশিকনগর গ্রামের তারেকুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘বছরে দু’একবার কামারশালায় আসা লাগে বিভিন্ন জিনিস তৈরি ও চাকু ধার দিতে। তবে আজ প্রথম দেখলাম মেশিন দিয়ে লোহা পিটিয়ে দা, বটি ও চাকু তৈরি করা হচ্ছে। জিনিস গুলো তৈরি করতে সময়ও অনেক কম লাগছে।’

আধুনিক কামারশালার লোহার কারিগর বিকাশ কর্মকার বলেন, ‘আগে লোহা পিটাতে হাতুড়ি দিয়ে দীর্ঘ সময় পেটাতে হতো। এতে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম হতো আমাদের। তবে এই বিদ্যুৎ চালিত হ্যামার তৈরির ফলে সেই পরিশ্রম একেবারেই কমে গেছে। পাশাপাশি কাজের গতিও অনেকটা বেড়েছে। আমার এই ছোট্ট দোকানে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার টাকার কেনাবেচা হয়।’

ফটো ক্যাপশন- নিজেদের তৈরি করা মোটরচালিত ‘হ্যামার’ দিতে আগুনে উত্তপ্ত লোহা দিয়ে চাকু তৈরি করছে বিকাশ কর্মকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ