
বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩: দেশজুড়ে উৎসব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা
সংবাদ:
আজ মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম দিন। ভোরের নতুন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নতুন বছরের আনুষ্ঠানিক বর্ষবরণ। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশে নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে দিনটি।
পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে জাতীয় পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। শুভ নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারি ছুটির দিন হিসেবে এদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি রমনা বটমূলে ছায়ানটের ভোরের সাংস্কৃতিক আসরে শুরু হয় নববর্ষের প্রথম প্রহর।
নববর্ষের অনুষ্ঠান ঐতিহ্য অনুযায়ী জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয়।
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস কৃষিভিত্তিক সমাজ ও মুঘল সম্রাট আকবরের সময়কার রাজস্ব ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ১৫৫৬ সালে প্রবর্তিত এই সন প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, যা পরবর্তীতে বঙ্গাব্দ হিসেবে পরিচিতি পায়।
হালখাতা ছিল একসময় নববর্ষের অন্যতম প্রধান আয়োজন, যেখানে ব্যবসায়ীরা পুরোনো হিসাব শেষ করে নতুন খাতা খুলতেন এবং ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এখনো গ্রামগঞ্জে কিছু জায়গায় এই ঐতিহ্য টিকে আছে।
স্বাধীনতার পর থেকে পহেলা বৈশাখ ধীরে ধীরে জাতীয় ও নাগরিক উৎসবে রূপ নেয়। বিশেষ করে ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে ওঠে। ২০১৬ সালে ইউনেসকো এই শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি প্রদান করে।
আজকের পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।