
টাঙ্গাইল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন, ২২ হাজার কৃষক পেল ডিজিটাল সুবিধা
সংবাদ:
পহেলা বৈশাখের প্রথম দিনে দেশের কৃষি খাতে নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ২২ হাজার কৃষকের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হলো।
মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইলে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, একটি সুইচ টিপলেই দেশের প্রায় ২২ হাজার কৃষকের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে যাবে—এটি একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। পরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, প্রথম ধাপে নির্বাচিত কৃষকদের মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণচাষিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, তিন ধাপে—প্রাক-পাইলটিং, পাইলটিং ও দেশব্যাপী সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড, যা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের নামে চালু করা হয়েছে।
কার্ডধারী কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ভর্তুকি, কৃষি প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার তথ্য, কৃষি বিমা এবং কৃষিপণ্য বিপণনসহ মোট ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন।
এছাড়া নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের বছরে আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তাও দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ দেশের কৃষি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।