• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের সঙ্গে ৬টি চুক্তি-সমঝোতা, বাংলাদেশকে ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস নীলগঞ্জের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা, হাজিপুরে মতবিনিময়ে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব

রাষ্ট্র সংস্কার ও জাতীয় পুনর্গঠনের তাগিদ: সংসদে জোনায়েদ সাকির জোরালো বক্তব্য

রিপোর্টার: / ৯৩ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

রাষ্ট্র সংস্কার ও জাতীয় পুনর্গঠনের তাগিদ: সংসদে জোনায়েদ সাকির জোরালো বক্তব্য

জাতীয় পুনর্গঠন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পুনর্গঠনের সময় পার করছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তার মতে, ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই দেশে একদলীয় শাসনের প্রবণতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী হয়ে কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর দিকে গেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনবিহীন ক্ষমতা চর্চার প্রবণতা বাড়ার ফলে জাতীয় পুনর্গঠন এখন জনগণের একটি কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দাবিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো ধারণা সমাজে গভীর প্রভাব ফেললে তা রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয়।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বেছে নিয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের ঘোষিত ১৪, ২৭ ও ৩১ দফা কর্মসূচি রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে প্রতিফলিত করে।

অর্থনৈতিক কাঠামোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, গোষ্ঠীভিত্তিক অর্থনীতি বা ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ রাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে এবং সম্পদ পাচারের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সংস্কারের অংশ হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

জ্বালানি খাতে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর একটি ইতিবাচক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

মাদক ও নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।

রাজনৈতিক বিভাজন ও ঘৃণার সংস্কৃতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা না হলে গণতান্ত্রিক অগ্রগতি ব্যাহত হবে। জুলাই জাতীয় সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়নে ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্যের ওপরও জোর দেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং কার্যকর রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমেই দেশকে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ