
‘হতাশার রাজনীতি নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগোতে হবে’ — পতিসরে মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র সংগ্রামের ইতিহাস ভুলে সমাজে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশে একটি “হতাশাবাদী গোষ্ঠী” রয়েছে, যারা বিভিন্ন ইস্যুতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সমাজকে অস্থির রাখতে চায়। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসর রবীন্দ্র কাচারি বাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমাদের সবার আগে মনে রাখতে হবে—আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয় হঠাৎ করে আসেনি। নয় মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়েছে। আবার গণতন্ত্রও সংগ্রামের মাধ্যমেই ফিরে এসেছে।”
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে তরুণ প্রজন্ম নতুন করে পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে। “আমাদের সন্তানেরা জুলাইয়ে যে লড়াই করেছে, আমরা একে জুলাই যুদ্ধ বলি। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন এসেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে,” বলেন তিনি।
ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা ফ্যাসিস্ট ছিল, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ব্যাংক লুট হয়েছে, প্রশাসন ধ্বংস হয়েছে, অর্থনীতি বিদেশে পাচার হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, এখনো কিছু গোষ্ঠী ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে নতুন করে গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করছে। “আমরা কেউ চাই না দেশে আবার অস্থিরতা ফিরে আসুক,” বলেন তিনি।
আলোচনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, সমাজচিন্তা ও কৃষি উন্নয়ন ভাবনাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ শুধু কবি ছিলেন না, কৃষক ও গ্রামীণ সমাজের উন্নয়ন নিয়েও কাজ করেছেন। পতিসরে এসে কৃষকদের দুর্দশা দেখে তিনি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার বাবা ছিলেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। “প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি শেষে তিনি রবীন্দ্রনাথের ‘শাজাহান’ কবিতা আবৃত্তি করতেন,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও শেষ করা যায় না। কবিতা, গান, নাটক, গদ্য—সব জায়গাতেই তার অবাধ বিচরণ ছিল। গীতাঞ্জলি দিয়ে তিনি পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন।”
সাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “যে মানুষ সাহিত্য চর্চা করে, কবিতা শোনে বা গান গায়, সে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হয়।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।