
: শাপলা থেকে মুক্তিযুদ্ধ—‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার থামবে না’: তথ্যমন্ত্রী
: শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার সরকারের; জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জহির উদ্দিন স্বপনের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ, অন্যায় কিংবা ন্যায়বিচারবিরোধী কর্মকাণ্ডকে সরকার তামাদি হতে দেবে না। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মারক গ্রন্থ ‘শহীদনামা’র মোড়ক উন্মোচন, তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এটি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও সামাজিক সব শক্তির সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় নিজেদের সাংগঠনিক বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে বৃহত্তর সমাজের শক্তিকে উপলব্ধি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি, গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই জাতীয় ঐক্যই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি,” বলেন তথ্যমন্ত্রী।
শাপলা চত্বরের নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে তাদের প্রতি যে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে, তা আরও অর্থবহ করতে সংসদের শোক প্রস্তাব ও সদস্যদের বক্তব্য একত্র করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “যে কারণে সংসদে শাপলার শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে, সেই কারণেই তাদের প্রতি জাতির দায়িত্বও পালন করতে হবে।”
বিভিন্ন আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “শাপলা, জুলাই, ১৯৫২ কিংবা ১৯৬৯—সব আন্দোলন ও আত্মত্যাগের সম্মিলিত ফলাফলই হচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সার্বভৌমত্ব ও স্বনির্ভরতা রক্ষার প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে।”
তিনি বলেন, “কে ক্ষমতায় আছে, সেটি বড় বিষয় নয়; বড় বিষয় হলো জাতীয় লক্ষ্য ও ঐক্যকে ধরে রাখা। এই ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই দেশপ্রেমের জন্য জীবন দেওয়া শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব হবে।”
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শাপলা চত্বরের ঘটনার স্মরণে প্রকাশিত ‘শহীদনামা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কারও বিতরণ করা হয়।