
: ‘গণমাধ্যমে হামলা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা’ — টিআইবি নির্বাহী পরিচালক
: ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমের ওপর সংঘটিত হামলাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং কিছু মহলের “উৎফুল্ল প্রতিক্রিয়া” গভীর উদ্বেগের বিষয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের গণমাধ্যমের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তা বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে হামলা চালানো হলেও তখনকার অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত দুদিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দুটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে যেভাবে হামলা হয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এসব হামলা হঠাৎ করে হয়নি, অনেকটা ঘোষণা দিয়েই আক্রমণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এমনকি সেনাসদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম ও পরিচিত ব্যক্তিও তখন এসব হামলার ঘটনায় “রিজয়েস” বা উৎফুল্ল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। “এটি আমাদের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। তাই শুধু বাহ্যিক নয়, গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়েও আলোচনা জরুরি,” বলেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত এক দশকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলায় ৬০ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, প্রতিবেশী ভারতে প্রায় ৩০ জন, পাকিস্তানে প্রায় ৫০ জন এবং বাংলাদেশে ২৬ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত ঝুঁকি কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন UNESCO-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত Nicolas Weeks, GIJN-এর নির্বাহী পরিচালক Emilia Díaz-Struck এবং MRDI-এর নির্বাহী পরিচালক Hasibur Rahman।
এমআরডিআইয়ের ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স’-এ বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালসহ ১০টি দেশের ৫৪৭ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ অংশ নিয়েছেন।