
:
রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক নাটকীয়তার পর অবশেষে সরকার গঠনের পথে তামিরাগা ভেট্টরি কাঝাগাম (টিভিকে)। ভিসিকে ও আইইউএমএলের সমর্থনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন সুপারস্টার জোসেফ বিজয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কয়েক দিনের টানটান উত্তেজনা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গেল অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিরাগা ভেট্টরি কাঝাগাম (টিভিকে)। প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত হওয়ায় রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা।
২৯৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। এবারের নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিভিকে ১০৮টি আসন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তবে শনিবার (৯ মে) ভিসিকে’র ২ জন ও আইইউএমএলের ২ জন বিধায়ক নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ায় বিজয় জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০-এ।
রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে পাঠানো চিঠিতে ভিসিকে জানায়, তামিলনাড়ুতে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার নিশ্চিত করতেই তারা বিজয়কে সমর্থন দিচ্ছে। এর আগে কংগ্রেসের পাঁচজন এবং বাম দলগুলোর চারজন বিধায়কও বিজয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত ৬২ বছর ধরে রাজ্যটির ক্ষমতায় পর্যায়ক্রমে ছিল ডিএমকে ও এআইএডিএমকে। মাত্র দুই বছর আগে রাজনৈতিক দল গঠন করে বিজয় সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দিলেন।
এবারের নির্বাচনে ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন।
তামিলনাড়ুর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকে প্রধান এম কে স্টালিন এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মিত্র দলগুলোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ডিএমকের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই বিজয়কে সমর্থন দেওয়া “পেছন থেকে ছুরি মারার” সামিল।
সরকার গঠন ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র নাটকীয়তা চলছিল। বুধবার থেকেই সরকার গঠনের দাবি নিয়ে একাধিকবার রাজভবনে যান বিজয়। তবে রাজ্যপাল আর এন রবি ১১৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত সমর্থনপত্র ছাড়া সরকার গঠনের অনুমতি দিতে রাজি হননি।
শুক্রবার রাতে এএমএমকের এক বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত শনিবার দুপুরে ভিসিকে প্রধান থল তিরুমাভালাভান সরাসরি বিজয়ের হাতে সমর্থনপত্র তুলে দিলে সব অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন জোসেফ বিজয়। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে শুরু হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়।