• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস নীলগঞ্জের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা, হাজিপুরে মতবিনিময়ে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশির, সাতক্ষীরায় শোকের মাতম

রিপোর্টার: / ৮১ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশির, সাতক্ষীরায় শোকের মাতম

উপশিরোনাম:

স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ যাত্রার এক মাসের মাথায় মৃত্যু; নিহতদের পরিবারে আহাজারি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে নাবাতিয়েহ এলাকার জেবদিন গ্রামে তাদের আবাসস্থলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৩৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (২৬)। শফিকুল ছিলেন আফসার আলীর একমাত্র ছেলে এবং নাহিদুল ছিলেন আব্দুল কাদেরের ছেলে।

বাংলাদেশ দূতাবাস বৈরুত সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে জেবদিন এলাকার একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। এতে দুই বাংলাদেশিসহ একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হন। একই এলাকায় এটি ছিল ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বিতীয় দফা হামলা। এর আগে জেবদিন পৌরসভার একটি রুটি বহনকারী ভ্যানে ড্রোন হামলায় আরও দুই স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন।

দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে নিহতদের মরদেহ নাবাতিয়েহর নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় মাত্র এক মাস আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন শফিকুল ও নাহিদুল। ভালুকা চাঁদপুর মডেল হাইস্কুলের শিক্ষক আল কালাম আবু ওয়াহিদ জানান, গত ২০ রমজানে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন শফিকুল। তিনি ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান।

নিহতদের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। একমাত্র সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, “পরিবারের সুদিন ফেরানোর লড়াই শুরু হওয়ার আগেই এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছেন না।”

ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, “পরিবার দুটি অত্যন্ত অসহায়। ঋণ করে সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এখন সন্তান হারিয়ে তারা অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন।”

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘাত থামেনি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৬৯ জন নিহত হয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ