
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের হওয়া রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানার দুটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক কে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার (১৩ মে) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দাখিল করা হয়।
এর ফলে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির জামিন নিয়ে আবারও নতুন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই হত্যা মামলায় তাকে জামিন দেন।
হাইকোর্টের ওই আদেশের পর খায়রুল হকের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। তবে একদিনের ব্যবধানে রাষ্ট্রপক্ষের নতুন আবেদনে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু এবং অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি শিগগিরই আপিল বিভাগের শুনানিতে উঠতে পারে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলন ঘিরে আরও কয়েকটি মামলায় তার নাম যুক্ত হয়।
এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন। একই ধরনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায় আরও দুটি মামলা দায়ের হয়। পাশাপাশি প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক মামলাও করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর হাইকোর্টে আবেদন করেন খায়রুল হক। এর আগে মার্চ মাসে চারটি মামলায় এবং পরে দুদকের মামলাতেও তিনি জামিন পান। সেই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলেও গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেয়।
তবে পরে নতুন করে যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানার হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলে আবারও আইনি জটিলতায় পড়েন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। মঙ্গলবার হাইকোর্ট ওই দুই মামলায় জামিন মঞ্জুর করলে তার মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এখন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ফলে বিষয়টি আবারও আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।