
আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় ধরনের সমন্বয় এনেছে Air India। জুন থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত একাধিক আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট কমানো এবং কিছু রুটে সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিমান সংস্থা। এর মধ্যে মুম্বাই থেকে ঢাকার সরাসরি ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে Air India জানায়, জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথে চলমান বিধিনিষেধের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল করে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ানোর চেয়ে আগেভাগেই সূচি সমন্বয় করে স্থিতিশীল সেবা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
নতুন সূচি অনুযায়ী, মুম্বাই-ঢাকা রুটের সরাসরি ফ্লাইট নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি দিল্লি থেকে ঢাকা, কাঠমান্ডু, কলম্বো, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর রুটেও সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর আমেরিকার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিল্লি-শিকাগো রুট আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভার রুটেও ফ্লাইট কমানো হচ্ছে। এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
তবে কিছু গন্তব্যে ফ্লাইট বাড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছে সংস্থাটি। মুম্বাই থেকে নেওয়ার্ক রুটে এখন প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ইউরোপের প্যারিস, রোম, জুরিখ, ভিয়েনা ও কোপেনহেগেন রুটেও সূচিতে আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ” সংক্রান্ত তথ্যকে গুজব বলে উল্লেখ করেছে Air India। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখনো প্রতি মাসে পাঁচ মহাদেশে ১ হাজার ২০০টির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু রয়েছে।
যেসব যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তন হয়েছে, তাদের জন্য বিকল্প ফ্লাইট, বিনামূল্যে তারিখ পরিবর্তন অথবা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুবিধা রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে যাত্রীদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও যাচাইকৃত চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতকে নতুন করে কৌশল পুনর্বিন্যাসে বাধ্য করছে। Air India-এর এই সিদ্ধান্তকে সেই বৈশ্বিক বাস্তবতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।