
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। রোববার (২৪ মে) দুপুরে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে অভিযোগপত্র জমা দেন। চার্জশিটে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, শনিবার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়। প্রসিকিউশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগপত্রটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবন থেকে বের হয় শিশু রামিসা। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে সোহেল রানার ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে রামিসার মা আসামিদের কক্ষের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তিনি দেখতে পান মেঝেতে পড়ে আছে মাথাবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে রাখা কাটা মাথা। এ সময় স্বপ্না আক্তার ঘরের মধ্যেই ছিলেন।
জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের কথা উল্লেখ করেন এবং শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা বিচ্ছিন্ন করে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।
এদিকে পুলিশ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে, স্বপ্না আক্তার ঘটনাটিতে সহায়কের ভূমিকা পালন করেছেন।
নিহত রামিসার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মামলাটি পরিচালনার জন্য শনিবার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। এছাড়া ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যরাও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এ মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনি সেবা দেবেন না।
অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানিয়েছে।