
।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষ। ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিনেই যমুনা সেতু ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কয়েকগুণ বেড়েছে যানবাহনের চাপ। শেষ মুহূর্তের ঈদযাত্রায় মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
যানজট নিরসন, যাত্রী ভোগান্তি কমানো এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ ও টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহাসড়কে সর্বোচ্চ নজরদারি রাখা হয়েছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।
তিনি জানান, এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা। অন্যদিকে ঢাকাগামী ২১ হাজার ৬০টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।
তিনি আরও বলেন, “ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ চালু রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুটি বুথও রাখা হয়েছে। সার্বক্ষণিক টোল আদায় ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি।”
এদিকে মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, যিনি টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, জানান মহাসড়কে যানজট নিরসনে এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে যমুনা সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে মহাসড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, কোরবানির পশুবাহী ট্রাক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রিত থাকলে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে।