• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস নীলগঞ্জের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা, হাজিপুরে মতবিনিময়ে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার দ্বারপ্রান্তে, তিস্তাপাড়ে বন্যার শঙ্কা

রিপোর্টার: / ৭৫ পঠিত
আপডেট: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার দ্বারপ্রান্তে, তিস্তাপাড়ে বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে লালমনিরহাটের দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামীকাল রোববার সকালের মধ্যেই তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টায় দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ০২ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট খুলে দেওয়ায় উজানের বিপুল পরিমাণ পানি তিস্তা নদীতে প্রবেশ করছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে এবং অনেক আবাদি জমি ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

রংপুর অঞ্চলের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর দুই তীর উপচে পানি প্রবেশ করলে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক শামসুল হক বলেন, শনিবার ভোরেই তাদের এলাকায় নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। পানি আরও বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তাদের চর ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হবে।

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, উজানের ঢলের গতি দেখে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন তারা। ইতোমধ্যে আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে।

চর ইসলির কৃষক আমজাদ আলী জানান, তার দেড় বিঘা জমির বাদাম পানিতে ডুবে গেছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন তিনি।

অন্যদিকে, চর রাজপুরের কৃষক সুলাইমান আলী বলেন, চরের বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন, তিস্তাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ও ভাঙন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আপাতত অন্যান্য নদীতে বন্যা পরিস্থিতি না থাকলেও তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

এদিকে, নদীপাড়ের মানুষ ও কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ