• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদির প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান স্টেডিয়ামের কাজ পেল কাতারি নতুন তথ্য: বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান বোয়িং থেকে আরও বিমান কেনার সিদ্ধান্ত, নেপথ্যে কী? ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন নিলেন মির্জা ফখরুলের ভাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা থাকছে না যুক্তরাজ্যে কাতারের আমিরের নামে নতুন ইনোভেশন সেন্টার নতুন তথ্য: রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার সিলেটে মির্জা ফখরুল ১ অক্টোবর নিজস্ব কার্গো ফ্লাইট শুরু করছে ফ্লাইদুবাই সম্পর্ক উন্নয়নে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া জরুরি: উপদেষ্টা মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

বোয়িং থেকে আরও বিমান কেনার সিদ্ধান্ত, নেপথ্যে কী?

রিপোর্টার: / ৩ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বোয়িংয়ের সাথে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর আরও বিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এ সিদ্ধান্ত কি শুধুই বাণিজ্যিক প্রয়োজন, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো কূটনৈতিক প্রভাব?

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে নতুন করে আরও উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দাবি করেছেন যে, এটি কোনো বাহ্যিক চাপের ফসল নয়, বরং দেশের এভিয়েশন খাতের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িংয়ের সাথে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তির আওতায় ১০টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের বিমান অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই উড়োজাহাজগুলো সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। একই সাথে, ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসও বাংলাদেশকে ১০টি বিমান সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি এ৩৫০-৯০০ এবং চারটি এ৩২১ নিও মডেলের বিমান।

দেশের অর্থনীতির বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নতুন উড়োজাহাজ কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে। একদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে নতুন করে ঋণ বা বিনিয়োগের মাধ্যমে বিমান কেনার পরিকল্পনাকে অনেকেই ভিন্নভাবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের এভিয়েশন খাতের দ্রুত বর্ধনশীল চাহিদাকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। বর্তমানে বছরে প্রায় এক কোটি যাত্রী পরিবহন হচ্ছে এবং আগামী এক দশকে এই সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজন হতে পারে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, সময়মতো অর্ডার দিলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কেবল উড়োজাহাজ কিনলেই হবে না; এর সঠিক পরিচালনার জন্য দক্ষ পাইলট, প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান এবং শক্তিশালী রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অর্জন করা জরুরি। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এই বহর দেশের জন্য আর্থিক বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, এটিএম নজরুল ইসলামের মতে, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন হলেও উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ও বিপণন কৌশল গ্রহণ করা আবশ্যক। সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে পারলে এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ