
বোর্ডিং পাস দেওয়ার পরও মাত্র ১০ মাসের এক স্তন্যপানরত শিশুকে বিমানে উঠতে না দেওয়ার ঘটনায় কাতার এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কেরলের উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। যাত্রীদের সঙ্গে এমন আচরণকে চরম অমানবিক, পরিষেবায় গুরুতর ত্রুটি এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণ হিসেবে অভিহিত করে এয়ারলাইন্সটিকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতালিতে বসবাসকারী এক ভারতীয় পরিবার কোচি বিমানবন্দর থেকে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ইতালি যাওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। বিমানবন্দরের কর্মীরা সব নথিপত্র যাচাইয়ের পরই তাদের হাতে বোর্ডিং পাস তুলে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই পরিবারের দুই শিশুকে, যার মধ্যে একটি ১০ মাসের দুধের শিশুও ছিল, বিমানে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়।
অনুমতি বাতিলের ফলে ওই পরিবারটিকে চরম মানসিক যন্ত্রণা ও আকস্মিক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বাধ্য হয়েই পরবর্তীতে আদালতের দ্বারস্থ হন ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা। মামলার শুনানিতে কমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, একবার বোর্ডিং পাস ইস্যু করার পর যথাযথ কারণ ছাড়া কোনো যাত্রীকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আদালত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লক্ষ টাকা এবং মামলার খরচ হিসেবে আরও ২৫ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে। আইনি মহলের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো বড় ধরনের বার্তার মুখে পড়ল।