• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন

বোয়িং চুক্তি নিয়ে গোপন কোনো এজেন্ডা নেই: হুমায়ুন কবির

রিপোর্টার: / ৯ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাম্প্রতিক বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তির পেছনে কোনো গোপন পরিকল্পনা বা এজেন্ডা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিমান চলাচল খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের নিরিখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষর করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এই তালিকায় রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ। এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বিমান ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য একটি প্রাথমিক চুক্তি করেছিল, যেখানে আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সব মিলিয়ে চলতি বছরের বোয়িং কর্মসূচির আওতায় বিমানের বহরে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন এই উড়োজাহাজগুলো বিমানবহরে যুক্ত হলে তা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও যাত্রীসেবা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে এই ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় উড়োজাহাজ সরবরাহ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি আস্থা পাওয়া যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর ফলে চলতি বছরে বোয়িংয়ের কাছে বিমানের মোট ক্রয়াদেশ দাঁড়িয়েছে ২৫টি।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে বোয়িং জানিয়েছে, তাদের ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের এই নতুন উড়োজাহাজগুলো পুরোনো প্রজন্মের বিমানের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয়ী। ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনারগুলো বিদ্যমান ড্রিমলাইনার বহরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়াবে। অন্যদিকে, ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজগুলো একক-আইল বা সিঙ্গেল-আইল নেটওয়ার্কের আওতায় তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বের রুটে পরিচালনা করা হবে, যা এয়ারলাইন্সের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনবে। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজগুলো একক-আইলভিত্তিক নেটওয়ার্কে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বের রুট পরিচালনায় ব্যবহারের সুযোগ দেবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স পরিবারের উড়োজাহাজগুলো যেসব পুরোনো বিমানের পরিবর্তে ব্যবহৃত হবে, সেগুলোর তুলনায় জ্বালানি সাশ্রয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ