• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন ঋণের জন্য বাংলাদেশের সামনে আইএমএফের চার কঠিন শর্ত সবার জন্য টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী পল্টন-প্রেস ক্লাবে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ, রাজধানীতে তীব্র যানজট সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা ও অবকাঠামো নির্মাণের তীব্র নিন্দা বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে গাছের চারা রোপণ করলেন প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আলোচনার আহ্বান ইরানের চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনে বিশ্বশক্তির জোর প্রতিযোগিতা ১৭২ যাত্রীর প্রাণরক্ষা: হাসপাতালে আহত পাইলটকে দেখতে গেলেন ক্রাউন ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

সবার জন্য টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার: / ৩ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কেবল চার দেয়ালের একটি ঘর নয়, বরং নাগরিক নিরাপত্তা, উন্নত জীবনযাত্রার মান এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার সমন্বয়েই প্রকৃত টেকসই আবাসন গড়ে ওঠে। তিনি বলেছেন, বসতি দিবসের তাৎপর্য কেবল একটি ঘরের চারের দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান ও নিরাপত্তার মতো বহুবিধ বিষয় সরাসরি জড়িত। নাগরিকদের জন্য শুধু একটি বাসস্থানই নয় বরং সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি। দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, একটি টেকসই আবাসন ব্যবস্থায় নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়োনিষ্কাশন, সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। যদিও বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে এমন লক্ষ্য অর্জন করা উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং, তবুও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। তবু প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বেরসঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এমন বাস্তবতায় সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ—এই ধারণাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার অত্যধিক চাপ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শহরের ওপর চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, বিদ্যমান নগরায়ন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সারা দেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ঢাকার চারপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভারপপুলেটেড (জনাকীর্ণ)।

পরিকল্পিত নগরায়ন ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় শহরসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পিত বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারের এই প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজতর হবে। সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বেড়েই চলেছে। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাস।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট নিরসনে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও অংশীজনদের সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ ও নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল তৈরির মাধ্যমে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার কাজ চলছে। দেশের পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও আবাসন সংক্রান্ত সকল পরিকল্পনা স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সকল পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ