• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী সৌদি-আমিরাত সম্পর্ক: অভিন্ন স্বার্থে পুরনো দ্বন্দ্ব ভুলে এক কাতারে? ২০২৭ সালে রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: জামিনে মুক্ত গোলাম মহিউদ্দিন সরকারের সাথে সমঝোতা ব্যর্থ, ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের লংমার্চ ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত: মনসুরের ভাইরাল হওয়ার নেপথ্য কাহিনি নতুন ঋণের জন্য বাংলাদেশের সামনে আইএমএফের চার কঠিন শর্ত সবার জন্য টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

সৌদি-আমিরাত সম্পর্ক: অভিন্ন স্বার্থে পুরনো দ্বন্দ্ব ভুলে এক কাতারে?

রিপোর্টার: / ২ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারস্পরিক সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং কৌশলগত আলোচনা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে যে, অতীতের অনেক তিক্ততা পেছনে ফেলে রিয়াদ ও আবুধাবি আবারও এক কাতারে আসার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক কিছু তৎপরতায় তেমন ইঙ্গিতই মিলছে। আমিরাতের কাছে যখন হোদেইদাহ বন্দরসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চল নিরাপদ মনে হওয়া শুরু করল, তখন তারা যুদ্ধ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।

গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রী মনসুর বিন জায়েদ সৌদি আরবে সফর করেন। এ সময় তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌদি যুবরাজের প্রতিনিধি দলে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির মহাসচিব আলী আল শামসি এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি, ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান আলী আল নেয়াদিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সফরকে রিয়াদ ও আবুধাবির দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান দৈনিক ‘দ্য ন্যাশনাল’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে দুই দেশ সবসময়ই ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখে আসছে। উপসাগরীয় কূটনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এই ধরনের সফর নিয়মিত ঘটনা এবং যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজেদের অবস্থান সমন্বয়ের লক্ষ্যেই কর্মকর্তারা বৈঠক করেন।

এক সময় দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়েমেন সংকট তাদের মধ্যে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। ইরান-সমর্থিত হুথিদের মোকাবিলায় প্রথম দিকে সৌদি ও আমিরাত যৌথভাবে কাজ করলেও পরবর্তীতে তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। সৌদি আরব ইয়েমেনের বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিলেও আমিরাত ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)’-কে সহায়তা করতে শুরু করে। বিশেষ করে হুথিদের হাত থেকে অঞ্চলটি মুক্ত করার প্রশ্নে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই দুই শক্তির মধ্যে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতেও মতপার্থক্য ছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার মতো সাহসী সিদ্ধান্তই এর বড় উদাহরণ। এছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের আওতায় আমিরাত সবার আগে এগিয়ে গেলেও সৌদি আরব তাতে যোগ দেয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে হুথিদের হুমকির মুখে রিয়াদ তাদের কৌশল পরিবর্তন করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে মক্কা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ভিন্ন। তবে বর্তমানে হুথির হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের পরিবর্তে পাকিস্তান ও পুরোনো শত্রু তুরস্কের দিকে ঝুঁকেছে রিয়াদ।

সম্প্রতি ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরের পরের দিনই মনসুর বিন জায়েদের রিয়াদ সফরটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ছিল দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, তবে ইসরাইলি গণমাধ্যমের দাবি, বৈঠকে সৌদি ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইরান-হুথি হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। যদিও সৌদি আরব এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত ছিল।

ইরান শুধু সামরিকভাবেই নয়, বরং হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও তেল পাইপলাইনের মতো কৌশলগত অবকাঠামোয় হুথিদের হামলার মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে। এক দশক আগে ইয়েমেনে বড় ধরনের সংকটে পড়া সৌদি আরব ২০২২ সালে তা থেকে নিস্তার পেলেও, পুনরায় উদ্ভূত হুমকি তাদের জন্য নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বুধবার সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলে ভাষণের সময় যুবরাজ সালমান জোর দিয়ে বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর ওপর হামলা প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অবিচ্ছেদ্য। ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে মিলে তারা কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অখণ্ডতা জোরদারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন, যাতে জিসিসির লক্ষ্য পূরণ সহজ হয়।

এর আগে জুলাই মাসে সৌদি ন্যাশনাল মিডিয়া অথরিটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল্লাহ আল হামেদ দুই দেশের বন্ধনকে অবিচ্ছেদ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। পাশাপাশি আগস্টে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ সৌদি বাদশাহ সালমানের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে তাকে ডিসেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের পানিবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং ইরান ইস্যুতে চাপ বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গেও সৌদি আরব যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব সম্ভবত ইয়েমেনে পুনরায় সামরিক হস্তক্ষেপে আগ্রহী নয়। বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের সংহতি বজায় রেখে ইরানের ওপর সম্মিলিত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করাকেই তারা বেশি কার্যকর মনে করছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর জিসিসি গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক নীতি নির্ধারণে ঐক্যবদ্ধ থাকা, যা বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। দৃশ্যত মনে হচ্ছিল তারা যেন চিরকালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিশেষ করে সৌদির ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ছিল তেহরানের লক্ষ্যবস্তু।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ