
ভোলা প্রতিনিধি:
নদী ও সাগরবেষ্টিত দেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলার মানুষের চলাচলের প্রধান ভরসা নৌযান। তবে প্রতি বছর ঈদ মৌসুম এলেই ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচলকে কেন্দ্র করে বাড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবারও ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
চারদিকে নদীঘেরা ভোলা জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযান। জেলার সাত উপজেলা থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন। বিশেষ করে ভোলা-ঢাকা নৌরুটে প্রতিদিন অন্তত ৩০টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। ঈদ মৌসুমে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় ফিটনেসবিহীন ও জরাজীর্ণ লঞ্চ নদীতে নামিয়ে থাকেন। এতে করে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। উপকূলীয় উত্তাল নদীতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
নৌ বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ লঞ্চ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে ফিটনেসবিহীন বডি, সি-সার্ভে না থাকা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রতিযোগিতামূলক গতিতে চলাচল, মাস্টারের গাফিলতি এবং ডুবোচরে আটকে পড়ার মতো কারণ।
অতীতের নানা দুর্ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি এখনও ভোলাবাসীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাই এবারের ঈদে নতুন সরকারের কাছে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিতের প্রত্যাশা করছেন দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে Bangladesh Launch Owners Association-এর সভাপতি ও মেসার্স এ রহমান এন্ড সন্সের মালিক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার নৌপথের যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো ফিটনেসবিহীন লঞ্চকে নৌপথে চলতে দেওয়া হবে না। Bangladesh Inland Water Transport Authority (বিআইডব্লিউটিএ) এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র ভোলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, ঈদকে সামনে রেখে ভোলার প্রতিটি নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র সমন্বয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে।
তিনি বলেন, অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় ভোলা উপকূলের প্রতিটি নৌরুটে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম মাঠে কাজ করবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা হবে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।