
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ, ফেরি ও খেয়াঘাটগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রোববার সকালে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মো. আরিফ হোসেন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “আসন্ন ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে দক্ষিণ জোনের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।”
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, ভোলার ইলিশা, খেয়াঘাট, ভেদুরিয়া, নাজিরপুর, চৌমুহনী, লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ও আলেকজান্ডার, বরিশালের ডিসি ঘাট, উলানিয়া, পুরাতন হিজলা, পটুয়াখালীর আলীপুর, কালাপাড়া ও বাউশিয়া, নোয়াখালীর তমরুদ্দিন ও রাম নেওয়াজ এবং বরগুনার কাকচিড়া ও পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাটে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কন্ট্রোল রুমে কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশি, যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিংসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ক্যাপ্টেন আরিফ হোসেন।
তিনি আরও বলেন, “চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ টহল টিম ও উচ্চগতির বোট মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির পশু ও পণ্য পরিবহন নিরাপদ রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”
অতিরিক্ত যাত্রীবহনজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ টহল, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ছোট ট্রলার বা অননুমোদিত নৌযানে যাত্রী ওঠানামা ঠেকাতেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা নিতে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
ক্যাপ্টেন আরিফ হোসেন বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। ঈদে দেশবাসী যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি জানান, ঈদ শেষে যাত্রীদের নিরাপদে কর্মস্থলে ফেরা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের এ নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।