
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে নতুন স্থাপিত পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর একটি যৌথ ক্যাম্পে গভীর রাতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সন্ত্রাসীরা বুলডোজার দিয়ে ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে যৌথ বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পাশাপাশি এক্সাবেটর দিয়ে বিভিন্ন সড়ক কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টাও চালানো হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় গুলিবিনিময়ের পর সোমবার ভোরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ সশস্ত্র সন্ত্রাসী এই হামলায় অংশ নেয়।
গতকাল রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার পর জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় স্থাপিত যৌথ ক্যাম্পে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও র্যাব সূত্র জানায়, রাত ১টার পর হঠাৎ করেই যৌথ ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে সন্ত্রাসীরা। সুপরিকল্পিতভাবে তারা যাতায়াতের বিভিন্ন সড়ক কেটে ফেলে এবং ক্যাম্পের পেছনের অংশের দেয়াল বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালায়। এ সময় ক্যাম্পসংলগ্ন বেশ কিছু অস্থায়ী স্থাপনাও ভাঙচুর করা হয়।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সন্ত্রাসী ‘ইয়াসিন গ্রুপ’ রাতের অন্ধকারে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে এবং ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নন-লিথাল (অপ্রাণঘাতী) অস্ত্রের পাশাপাশি পাল্টা গুলিও চালানো হয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ভোর ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলি চলতে থাকে। পরে যৌথ বাহিনীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ভোরেই ঘটনাস্থলে যান পুলিশের ডিআইজি, র্যাব-৭ অধিনায়ক এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুর প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে সোমবার সকাল থেকে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। অতীতেও সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের অংশগ্রহণে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘ অভিযানের পর প্রশাসন পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং অপরাধীদের পুনরায় অবস্থান ঠেকাতে ছিন্নমূল ও আলীনগর এলাকায় দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল এবং যৌথ বাহিনীর সদস্যদের মনোবল ভেঙে দিতেই এই সংঘবদ্ধ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বর্তমানে পলাতক সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।